
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সার্ভিস রুল না মানা, ব্যক্তিগত গাড়ি প্রতিষ্ঠানের কাজে ব্যবহার, প্রভাব খাটিয়ে পদায়ন ও প্রকল্প পরিচালক হওয়ার চেষ্টা, কথিত স্বাক্ষর জালিয়াতি, আন্তর্জাতিক এসএমএস ব্যবসায় অনিয়ম এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিভিন্ন বিটিএস সাইটে ব্যাটারি না বসিয়েই ঠিকাদারকে বিল দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
এ ছাড়া বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে বেনামে অভিযোগ দিয়ে প্রতিষ্ঠানের ভেতরের পরিবেশ অস্থির করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্টরা এসব অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, টেলিটকের সার্ভিস রুল ও দাপ্তরিক নিয়ম উপেক্ষা করে ওই কর্মকর্তা নিজের মালিকানাধীন বা নিয়ন্ত্রণাধীন একটি গাড়ি প্রতিষ্ঠানের কাছে ভাড়া দেন। পরে সেটি তিনি নিজে ও পরিবারের সদস্যদের ব্যবহারের সুযোগ নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি অফিসের আরেকটি গাড়িও ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করতেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় স্বার্থের সংঘাত এবং প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ও প্রশাসনিক নিয়ম ভাঙা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। সংশ্লিষ্ট নথি, অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং গাড়ি ব্যবহারের রেকর্ড যাচাই করলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পদায়নের অভিযোগ
অভিযোগ রয়েছে, আগের সরকারের সময়ে ওই কর্মকর্তা তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা মোফাজ্জল হোসেন মায়া চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
পরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলে গেলেও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার নাম ব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন কিংবা প্রকল্প পরিচালক হওয়ার জন্য তদবির চালানোর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
তবে এসব অভিযোগ যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট সময়ের নিয়োগ, পদায়ন, প্রকল্পসংক্রান্ত নথি এবং সুপারিশপত্র দেখে নিরপেক্ষ তদন্ত করা দরকার বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আন্তর্জাতিক এসএমএস ব্যবসা নিয়েও প্রশ্ন
AEB সভাপতির স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ
অভিযোগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর একটি হলো, প্রকল্প পরিচালক হওয়ার জন্য AEB-এর সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে টেলিটক কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।
অভিযোগটি সত্য হলে এটি প্রশাসনিক অনিয়মের পাশাপাশি জালিয়াতির অভিযোগও হতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট চিঠির মূল কপি, স্বাক্ষরের সত্যতা, চিঠির উৎস এবং অনুমোদন প্রক্রিয়া যাচাই করে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ব্যাটারি না বসিয়েই বিল দেওয়ার অভিযোগ
বর্তমানে ওই কর্মকর্তা টেলিটকের চট্টগ্রাম রিজিয়নের মহাব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, তার দায়িত্বকালে চট্টগ্রাম রিজিয়নের বিভিন্ন বিটিএস সাইটে ব্যাটারি না বসিয়েই ঠিকাদারকে বিল দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি কমিটি করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, তদন্ত কমিটি বিষয়টি পর্যালোচনা করে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে এবং ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে। তবে এ বিষয়ে টেলিটকের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
অভিযোগগুলো ঘিরে চট্টগ্রাম রিজিয়নের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বেনামে অভিযোগ দেওয়ার অভিযোগ
ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিজের পরিচয় গোপন রেখে বিভিন্ন সময়ে টেলিটকের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ পাঠানোর অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, এসব অভিযোগের কিছু ব্যক্তিগত ও প্রশাসনিক বিরোধের জের ধরে করা হয়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ অস্থির হয়ে উঠছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় যথাযথ প্রমাণসহ তা জানানো উচিত।



