print news || Dailydeshsomoy

প্রকাশিত

সঞ্জিব দাস, গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

পটুয়ালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নে জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে ছাগলে ধানের চারা খাওয়ানোকে কেন্দ্র করে। এ ঘটনায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে নারীসহ ৪ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর চরমোন্তাজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন মো. অলিউদ্দিন গাজী (৩৬), মো. ইব্রাহিম গাজী (৩৭), আখিনুর বেগম (৪২), শাহিনুর বেগম (২৫),। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে। পরে চরমোন্তাজে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আহতদের গলাচিপা উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পুরোনো বিরোধেই নতুন করে উত্তেজনা আহতদের স্বজন ও অভিযোগকারীদের ভাষ্য, জমিজমা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ রয়েছে। সেই বিরোধের মধ্যেই অভিযুক্ত পক্ষের ছাগল একটি জমিতে ঢুকে ধানের চারা খেয়ে ফেলে। এতে ফসলের ক্ষতি হওয়ায় প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

অভিযোগকারীদের দাবি, হামলার সময় তাঁদের মারধর করার পাশাপাশি প্রতিপক্ষকে খুন-জখমের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। কারা হামলায় জড়িত, উঠছে প্রশ্ন
হামলার ঘটনায় মো. মিরাজ আকন, ইলিয়াস আকন, সায়েম আকন, কাইয়ুম আকন, খলিল আকন ও ফিরোজ আকনসহ আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে দায়ী করেছেন অভিযোগকারীরা।

অভিযোগে মিরাজ আকনকে চরমোন্তাজ স্বেচ্ছাসেবক দলের যুব সাধারণ সম্পাদক এবং ইলিয়াস আকনকে চরমোন্তাজ ইউনিয়ন ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে হামলা বা জমি দখলের চেষ্টা করা হয়েছে কি না, তা তদন্তে স্পষ্ট হবে।

অভিযোগকারীদের আরও দাবি, জমিজমা নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হলেও অভিযুক্তরা তা মানছেন না। তাঁদের অভিযোগ, রাজনৈতিক ও দলীয় প্রভাব কাজে লাগিয়ে জমি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। অভিযোগ অস্বীকার মিরাজের
তবে হামলার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন মো. মিরাজ আকন। তাঁর ভাষ্য, তাঁদের ছাগল ঘাসের সঙ্গে বাঁধা ছিল। ছাগল খুলে নিয়ে যাওয়ার সময় অপর পক্ষের লোকজনকে জিজ্ঞাসা করা হলে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। পরে একপর্যায়ে ঝগড়ার ঘটনা ঘটে।

মিরাজ আকনের বক্তব্যের সঙ্গে আহতদের অভিযোগের মধ্যে রয়েছে স্পষ্ট ভিন্নতা। ফলে প্রকৃতপক্ষে কী ঘটেছিল, কারা সংঘর্ষে জড়িত ছিল এবং হামলার সূত্রপাত কীভাবে, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণের দাবি উঠেছে। আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি
ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। অভিযোগ দায়ের হলে পুলিশি তদন্তে হামলার প্রকৃত কারণ, জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং জমিজমা নিয়ে চলমান বিরোধের বিষয়গুলো সামনে আসতে পারে। স্থানীয়দের মতে, তুচ্ছ একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের পেছনে দীর্ঘদিনের জমিজমা বিরোধই মূল কারণ কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কোনো পক্ষ রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব ব্যবহার করে থাকলে তারও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।