print news || Dailydeshsomoy

প্রকাশিত

সুমন ইসলাম, লালমনিরহাট

লালমনিরহাট জেলার পাঁচটি উপজেলার মধ্যে চারটি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে সাব-রেজিস্ট্রার পদ শূন্য থাকায় জমি রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রমে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। অন্য জেলার কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে সপ্তাহে এক বা দুই দিন অফিস পরিচালনা করা হলেও কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সেবাগ্রহীতারা।

এদিকে কালীগঞ্জ উপজেলার তুষভান্ডার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অতিরিক্ত দায়িত্বে কর্মরত সাব-রেজিস্ট্রার রিপন রায়ের বিরুদ্ধে সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জেলার বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের মধ্যে ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রিপন রায়ের স্থায়ী কর্মস্থল রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিস। পাশাপাশি তিনি তাড়াগঞ্জ উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসেও অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন। তুষভান্ডার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে তিনি সপ্তাহে মাত্র দুই দিন—মঙ্গলবার ও বুধবার—দায়িত্ব পালন করেন।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রায়ই নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে অফিসে আসেন এবং রাত পর্যন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এতে দলিল নিবন্ধনের জন্য আসা মানুষকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে বিলম্বের অজুহাতে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগও উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, অতিরিক্ত টাকা না দিলে দলিল সম্পাদনে নানা জটিলতা সৃষ্টি করা হয় কিংবা অন্যদিন আসতে বলা হয়।
এ অবস্থায় জমি ক্রয়-বিক্রয়ের কাজে আসা সাধারণ মানুষকে আর্থিক ও মানসিক ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে। অভিযোগকারীরা জানান, এসব বিষয়ে জানতে চাইলে অনেক সময় ভুক্তভোগী কিংবা সংবাদকর্মীদেরও অসৌজন্যমূলক আচরণের শিকার হতে হয়।
তবে সাব-রেজিস্ট্রার রিপন রায় ও তাঁর সহযোগীরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লালমনিরহাট সদর, পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা এবং তুষভান্ডার (কালীগঞ্জ) সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে সাব-রেজিস্ট্রার পদ শূন্য রয়েছে। সম্প্রতি আদিতমারী উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে একজন নারী সাব-রেজিস্ট্রার পদায়ন করা হয়েছে। কিন্তু জেলার অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ অফিসে এখনও স্থায়ী কর্মকর্তা না থাকায় সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জনগুরুত্বপূর্ণ এই পদগুলো দ্রুত পূরণ করা না হলে জমি রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রমে ভোগান্তি আরও বাড়বে। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘব এবং সরকারি সেবার মান নিশ্চিত করতে শূন্য পদগুলোতে দ্রুত জনবল নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।