
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর:
স্বামীর হাত ধরে সুখের সংসার গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন জান্নাতুন বাকিয়া পুষ্প। কিন্তু সেই স্বপ্ন আজ ভেঙে চুরমার। তার অভিযোগ, ১২ লাখ টাকা যৌতুক নেওয়ার পরও তাকে স্বীকৃতি না দিয়ে গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন সেনাবাহিনীর সদস্য স্বামী ইউনুস আলী।
গত ছয় বছর ধরে সেনানিবাস, থানা ও আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও ন্যায়বিচার পাননি বলে দাবি তার। এখন বিচার পাওয়ার আশায় দিন গুনছেন তিনি।
ভুক্তভোগী জান্নাতুন বাকিয়া পুষ্প জানান, ২০১৫ সালে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল বারীর মেয়ে জান্নাতুন বাকিয়া পুষ্পর সঙ্গে ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী বিয়ে হয় রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার অনন্তরামপুর গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে ও সেনাবাহিনীর সদস্য ইউনুস আলীর। তার দাবি, চাকরি হারানোর ভয় দেখিয়ে দীর্ঘদিন বিয়ের বিষয়টি গোপন রাখতে বাধ্য করা হয় তাকে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রায় চার বছর সংসার করার পর প্রথম স্ত্রীকে না জানিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেন ইউনুস আলী। বিষয়টি জানতে পেরে রংপুর সেনানিবাসে লিখিত অভিযোগ করেন পুষ্প। সেখানে প্রতিকার না পেয়ে আদালতের আশ্রয় নেন। মামলার পর আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলেও এখনো অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পুষ্পর পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের সময় ১২ লাখ টাকা যৌতুক দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই টাকা নিয়েও সংসার টেকেনি। বরং এখন মেয়েকে নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও কষ্টের মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে। বর্তমানে তিনি বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন। পরিবারের ভাষ্য, একসময় যে মেয়ের মুখে সুখের হাসি দেখার স্বপ্ন ছিল, আজ সেই মেয়েই বিচার পাওয়ার আশায় আদালত আর প্রশাসনের দরজায় ঘুরছেন।
ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, আইনের চোখে সবাই সমান। তাই অভিযুক্তের পেশা বা পরিচয় নয়, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হোক।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সেনা সদস্য ইউনুস আলীর বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি



