
প্রকাশিত
মারুফ সরকার, নিজস্ব প্রতিবেদক :
রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি.-তে পদোন্নতি ও বদলি বাণিজ্য, রাজনৈতিক বিবেচনায় কর্মকর্তা পুনর্বাসন এবং প্রশাসনিক অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ব্যাংকটির বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আনোয়ারুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা ও অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও আওয়ামী লীগ ও জামায়াতপন্থী হিসেবে পরিচিত কিছু কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো এবং পদোন্নতির মাধ্যমে একটি প্রভাবশালী বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এমডি মো. আনোয়ারুল ইসলাম ও ডিএমডি-৩ রূবানা পারভীনের নেতৃত্বে এই প্রক্রিয়া পরিচালিত হচ্ছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যাংকের বদলি ও পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে। রাজনৈতিক আনুগত্যকে যোগ্যতার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং নির্দিষ্ট কিছু সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সুবিধা পাচ্ছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে যোগ্য কর্মকর্তাদের দূরবর্তী এলাকায় বদলি করে হয়রানিরও অভিযোগ উঠেছে।
সূত্রগুলোর দাবি, সাম্প্রতিক সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) পদোন্নতিতে বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের একাধিক কর্মকর্তা সুবিধা পেয়েছেন। এ পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।
ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ কয়েকজন কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, এমডির দপ্তরের কিছু কর্মকর্তা তুলনামূলক কম যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ পদায়নের সুবিধা পেয়েছেন। একই সঙ্গে খুলনা অঞ্চলের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকেও বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগে সাবেক এমডি শামস উল ইসলামের আমলের বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ও উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, অতীতের আর্থিক অনিয়ম ও ঋণ কেলেঙ্কারির তদন্ত কার্যকরভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে না এবং সংশ্লিষ্টদের রক্ষায় প্রশাসনিক প্রভাব খাটানো হচ্ছে।
এদিকে মানবসম্পদ বিভাগের দায়িত্ব বণ্টন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের দাবি, বিধি অনুযায়ী দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার পরিবর্তে ডিএমডি-৩ রূবানা পারভীনকে মানবসম্পদ বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।
অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেন, অতীতে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ হিসেবে চিহ্নিত মো. আনোয়ারুল ইসলামকে পুনরায় এমডি হিসেবে নিয়োগের পর থেকেই রাজনৈতিক বিবেচনায় কর্মকর্তা পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ফলে ব্যাংকের অভ্যন্তরে বিভক্তি ও অস্বস্তিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ।
তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আনোয়ারুল ইসলাম, ডিএমডি রূবানা পারভীন কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং ব্যাংকের প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা।



