print news || Dailydeshsomoy

প্রকাশিত

আয়নাল ইসলাম।

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাগলা এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে শতাধিক মূল্যবান ফলজ ও বনজ গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী গোলাম মোস্তফা।

রবিবার (১৭ মে) বিকেলে গফরগাঁও উপজেলা প্রেসক্লাব হলরুমে এ সংবাদ সম্মেলনে গোলাম মোস্তফা সাংবাদিকদের জানান, উপজেলার পাগলা থানাধীন দত্তের বাজার ইউনিয়নের টেকপাড়া গ্রামে শুক্রবার সকালে হযরত আলীর নেতৃত্বে ৫ থেকে ৭ জনের একটি দল তার বাগানে হামলা চালিয়ে গাছপালা কেটে ফেলে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, “পূর্ব বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে আমার বাগানের গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। ঘটনার সময় তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আসে। ভয়ে আমি ঘর থেকে বের হতে পারিনি।”

তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত ৫/৬ জনকে আসামি করে পাগলা থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও বাগানের শ্রমিক বিল্লাল ও মজনু জানান, সকালবেলা ৬/৭ জনের একটি দল দা, কুড়াল ও লাঠিসোঁটা নিয়ে বাগানে প্রবেশ করে।
তারা মুহূর্তের মধ্যে মেহগনি, একাশি, আম, কাঁঠাল, চালতাসহ বিভিন্ন প্রজাতির শতাধিক গাছ কেটে ফেলে। এছাড়া জমিতে রোপণ করা নতুন গাছের চারাও উপড়ে ফেলা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একই গ্রামের এক ব্যক্তি বলেন, “যারা গোলাম মোস্তফার জমির গাছ কেটেছে তারা অন্য ওয়ার্ডের লোক। এমন ঘটনা খুবই নিন্দনীয়। আমরা এলাকাবাসী দোষীদের কঠোর শাস্তি দাবি করছি।”

ভুক্তভোগী গোলাম মোস্তফা আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মৃত তোতা মিয়ার ছেলে হযরত আলী তার ক্রয়কৃত জমি জবরদখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছেন। এ নিয়ে একাধিকবার অভিযোগ করা হয়েছে এবং স্থানীয় সালিশেও রায় তার পক্ষেই এসেছে।
তিনি দাবি করেন, অভিযুক্তরা তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দিয়েছে। ফলে বর্তমানে তিনি পরিবার নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

অভিযুক্তদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে উপজেলা বন বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, অভিযোগ পেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পাগলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, “এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”