
প্রকশিত
সঞ্জিব দাস, গলাচিপা, পটুয়াখালী, প্রতিনিধি
জনবল ও চিকিৎসক না থাকায় প্রায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে পটুয়াখালী গলাচিপা উপজেলার চর কাজল ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি। ফলে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে। যে কোনো প্রয়োজনে রোগীদের ছুটতে হচ্ছে উপজেলা বা জেলা শহরে। এতে সময় ও অর্থ দুই দিক থেকেই ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে এলাকাবাসীর।
জানা যায়, প্রায় ৩০ বছর আগে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হলেও আজ পর্যন্ত সেখানে কোনো এমবিবিএস চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করেননি। এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসকের অভাবে রোগীরা সঠিক সময়ে চিকিৎসা পাচ্ছেন না, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ইমরান ঢালী বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই এই কেন্দ্রটি দেখে আসছি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, এখনো পর্যন্ত এখানে কোনো এমবিবিএস ডাক্তারকে বসতে দেখিনি। বর্তমানে জনবল না থাকায় এটি পরিত্যক্ত ভবনে পরিণত হয়েছে। ফলে, আমাদের চিকিৎসার জন্য উপজেলা কিংবা জেলা শহরে যেতে হয়। এতে সময় ও অর্থ দুই দিক থেকেই ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। আবার যাদের টাকা আছে তারা যেতে পারে, যাদের টাকা নেই তারা যেতে পারে না। আমাদের এই চর এলাকায় অসহায় পরিবারের সংখ্যাই বেশি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটি অঞ্চলে বসবাস করি, যেখানে স্বাস্থ্যকেন্দ্র আছে, রোগীও আছে; কিন্তু ডাক্তার নেই।’
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবাবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মো. মেজবাহ উদ্দিন বলেন, প্রতিষ্ঠানটি পরিবার পরিকল্পনার আওতাধীন। তবে সেখানে তাদের কোনো স্টাফ নেই। একজন ডাক্তার সেখানে পোস্টেড আছেন, কিন্তু অন্য কোনো কর্মী না থাকায় সেবা দেওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি নেই।
তিনি বলেন, শুধু একজন ডাক্তার থাকলেই প্রতিষ্ঠান চালানো সম্ভব না। প্রয়োজনীয় স্টাফ না থাকায় সেবাও দেওয়া যাচ্ছে না। অন্যান্য সব পদই পরিবার পরিকল্পনার আওতাভুক্ত, কিন্তু সেখানে তাদের কোনো স্টাফই নেই।
পরিবার পরিকল্পনা সহকারী (পরিসংখ্যানবিদ) মো. শাহিন খান বলেন, ‘জনবল না থাকায় এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ওখানে আমাদের কোনো অফিসারও নেই। কলাপাড়ার যে ফ্যামিলি প্ল্যানিং অফিসার, তিনি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে এই উপজেলায় আছেন। আমাদের এই ফ্যামিলি প্ল্যানিংয়ের অফিসারও সংকট। পুরো জেলায় আছে মাত্র দুই জন। বর্তমানে চরকাজলের এই প্রতিষ্ঠানের চারটি পদের একটিতেও কোনো কর্মী কর্মরত নেই। এমনকি কোনো নিরাপত্তা প্রহরীও নেই। তবে পাঁনপট্টির মিথিলা রানিকে (এফডব্লিউভি) অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে চরকাজলের জন্য। তিনি সপ্তাহে একদিন সেখানে গিয়ে দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি আরো বলেন, কিছুদিন আগে শূন্য পদের একটি তালিকা জমা দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, জনবল নিয়োগ হতে পারে।’



