
প্রকাশিত
বগুড়া প্রতিনিধি:
নারীর ক্ষমতায়ন ও পরিবারের সামগ্রিক জীবনমান উন্নয়নে বর্তমান সরকারের অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির পাইলটিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
২০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল ইউনিট”—এই দর্শনের ভিত্তিতে ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, এই উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রামীণ নারীদের আর্থিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করে পরিবারকে স্বনির্ভর ও নিরাপদ ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোই সরকারের মূল লক্ষ্য।
‘ফ্যামিলি কার্ড’ একটি ডেটাবেস-নির্ভর ডিজিটাল সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে একটি পরিবারের সদস্যদের তথ্য একত্রিত করে বিভিন্ন সরকারি সহায়তা ও সেবা সমন্বিতভাবে প্রদান করা হবে। শুধু নগদ সহায়তা নয়, খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি সহায়তা এবং অন্যান্য কল্যাণমূলক কার্যক্রম এই কার্ডের আওতায় আনা হবে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে প্রায় ৪ কোটি মানুষকে এই কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশেষ করে গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে এই উদ্যোগকে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় প্রশাসন জানায়, গাবতলীতে পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে সারাদেশে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। ইতোমধ্যে উপকারভোগীদের তালিকা প্রস্তুত ও তথ্য যাচাই কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নারীর হাতে অর্থনৈতিক ক্ষমতা তুলে দেওয়া হলে তা সরাসরি পরিবারের উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি দেশের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
উল্লেখ্য, সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও সমন্বিত করতে এ ধরনের ডিজিটাল উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।



