
প্রকাশিত,১৭, মার্চ,২০২৪
আজিজুল হক, মুরাদনগর (কুমিল্লা)ঃ
কুমিল্লার মুরাদনগরের ধামঘর ইউনিয়নে গাইটুলি গ্রামে বিচার সালিসিতে পরিকল্পিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার দুপুরে আব্দুল অদুদ মিয়ার উঠানে বাড়ীর সীমানা নিয়ে সালিসি বৈঠকে ওই হামলায় নারীসহ ৪ জন আহত হয়েছে। আহতরা হলেন, আব্দুল মান্নান মিয়ার ছেলে আমির হোসেন (৩৫), মনির হোসেনের স্ত্রী মৌসুমী আক্তার (২৪),আমির হোসেনের স্ত্রী রোকসানা আক্তার (২২), মোহাম্মদ আলীর মেয়ে লিমা আক্তার (১৮)। উক্ত ঘটনায় আব্দুল মান্নান বাদী হয়ে ৯ জনকে আসামী করে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। আসামীরা হলেন, মোঃ খালেক মিয়ার ছেলে ফারুক (৩০), শাকিল (২৪), দিলদার (২৬), সাইফুল (২২), মৃত সুজত আলীর ছেলে মোঃ খালেক (৬০), মাঃ হাকিম (৪৫), মৃত হাসেম মিয়ার ছেলে সাফায়েত (৬০), মোঃ জামাল (৪৫) এবং সাফায়তের ছেলে মোঃ আরাফাতসহ অজ্ঞাতনামা ৩/৪জন।
অভিযোগ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, মৃত আব্দুল জলিল মিয়ার ছেলে মান্নান মিয়ার সাথে দীর্ঘদিন ধরে মৃত সুজত আলীর ছেলে আব্দুল খালেক মিয়া গংদের জায়গা সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। খালেক মিয়া গং মান্নান মিয়ার পৈত্রিক সম্পত্তি জোর পূর্বক দখল করে রেখেছে। এ বিষয়ে মিমাংসার লক্ষ্যে শুক্রবার সকালে অদুদ মিয়ার উঠানে বিচার সালিসের বৈঠক বসলে খালেক মিয়া গং পেশি শক্তির বলে আব্দুল মান্নান মিয়ার ছেলে আমির হোসেনকে ক্রিকেট স্ট্যাম্প দিয়ে এলোপাথারী পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। তাকে বাঁচতে তার স্ত্রী রোকসানা আক্তার, ভাইয়ের বউ মৌসুমী আক্তার ও মোহাম্মদ আলীর মেয়ে লিমা আক্তার এগিয়ে এলে তাদেরকেও পিটিয়ে মারাত্বক ভাবে আহত করে, ফিল্মি স্টাইলে বিচার সালিস ভেঙ্গে দিয়ে চলে যায়। পরে এলাকার লোকজন আহতদের উদ্ধার করে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
এ বিষয়ে সালিস বৈঠকে উপস্থিত ফিরোজ মেম্বার বলেন, গ্রাম্য সালিসিতে এভাবে মারামারি করলে গ্রামের কোন সরদার আর কোন গ্রাম্য সালিসিতে বসবেনা, এমন যদি হয়! আস্তে-আস্তে গ্রামের সালিস বৈঠক বিলীন হয়ে যাবে।
সালিস শুনতে আসা কয়েকজন প্রত্যক্ষ্যদর্শী বলেন, কোন কিছু বোঝার আগেই খালেক মিয়ার ছেলেরা আমির হোসেনের উপর ঝাপিয়ে পড়ে এবং তাকে স্ট্যাম্প দিয়ে পিটিয়ে আহত করে আমির হোসেনের ঘরের লোকজন তাকে রক্ষা করতে এলে তারাও স্ট্যাম্পের আঘাতে আহত হয়। খালেক মিয়ার ৪ ছেলের লাঠি ঘুরানোর ভয়ে তখন কেউ এগুতে পারেনি। এদের ভয়ে আমরা সব সময় আতংকে থাকি।
মুরাদনগর থানার ওসি প্রভাষ চন্দ্র ধর বলেন, গাইটুলি গ্রামের মারামারির ঘটনায় একটি অভিযোগ পেযেছি, তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।


