
প্রকাশিতঃ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
দেশের ত্রয়োদশ প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) হলেন অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র সচিব কাজী হাবিবুল আউয়াল।
শনিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
(হাবিবুল আউয়াল) আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগে সুপার নিউমারারি (স্বল্প সময়ের জন্য) সচিব ছিলেন। সেখান থেকে তাকে রাষ্ট্রপতির ১০ শতাংশ কোটায় প্রথমে ধর্মসচিব এবং পরে প্রতিরক্ষা সচিব হিসেবে প্রেষণে নিয়োগ দেন।
পরে ২০১৪ সালের ১৮ জুন তার চাকরির মেয়াদ এক বছর বাড়ায় সরকার। ২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি অবসরোত্তর ছুটিতে (পিআরএল) যাওয়ার কথা ছিল হাবিবুল আউয়ালের।
কিন্তু গত বছরের ২১ জানুয়ারি পিআরএল বাতিল করে তাকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব হিসেবে এক বছরের চুক্তিতে নিয়োগ দেয় সরকার। পরে চুক্তির মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানো হয়।
নিয়োগপ্রাপ্ত অন্য চার নির্বাচন কমিশনার হলেন– অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ বেগম রাশিদা সুলতানা, অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহসান হাবীব খান, অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর ও আনিছুর রহমান।
রাষ্ট্রপতি এই নিয়োগ দিয়েছেন বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। সংবিধানের ১১৮(১) অনুচ্ছেদে দেয়া ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি এই নিয়োগ দিয়েছেন বলেও প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।
‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন, ২০২২’ অনুসারে নির্বাচন কমিশন গঠনে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন করে গত ৫ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ পেশ করতে কমিটিকে ১৫ কার্যদিবস সময় দেওয়া হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সার্চ কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেয়।
নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনে সার্চ কমিটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল এবং ব্যক্তি পর্যায় থেকে নাম নেওয়া ছাড়াও বিশিষ্টজনের সঙ্গে বৈঠক করে। গত মঙ্গলবারের (২২ ফেব্রুয়ারি) সভায় ১০ জনের নাম চূড়ান্ত করে কমিটি।
সিইসি ও চারজন নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠনে ১০ জনের ওই নামের তালিকা ও বিশিষ্ট নাগরিকদের সঙ্গে বৈঠকে উঠে আসা সুপারিশ গত বৃহস্পতিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতির কাছে পৌঁছে দেয় সার্চ কমিটি।
নতুন ইসি গঠনে অনুসন্ধান কমিটি মোট ৭টি সভা করেছে। এছাড়া সার্চ কমিটির সঙ্গে চারটি সভায় অধ্যাপক, গণমাধ্যমের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তি, সরকারি সাবেক কর্মকর্তা, সামরিক বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা, পেশাজীবী সংগঠনের নেতাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।
পরে সার্চ কমিটির কাছে আসা ৩২২ জনের নামের তালিকা করা হয়। এরপর ১৪ ফেব্রুয়ারি রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এসব নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়। এরপরও রাজনৈতিক দলসহ বিশিষ্টজনদের কাছ থেকে নাম নেয় কমিটি।
সার্চ কমিটিতে সদস্য ছিলেন- সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান, মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মুসলিম চৌধুরী, সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান সোহরাব হোসাইন, সাবেক নির্বাচন কমিশনার মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন এবং কথা সাহিত্যিক অধ্যাপক আনোয়ারা সৈয়দ।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ১২ ব্যক্তি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তারা হলেন
কে এম নূরুল হুদা: ২০১৭ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি।
কাজী রকিবউদ্দীন আহমেদ: ২০১২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১৭ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি।
ড. এ টি এম শামসুল হুদা: ২০০৭ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি।
বিচারপতি এম এ আজিজ: ২০০৫ সালের ২৩ মে থেকে ২০০৭ সালের ২১ জানুয়ারি।
এম এ সাইদ: ২০০০ সালের ২৩ মে থেকে ২০০৫ সালের ২২ মে।
মোহাম্মদ আবু হেনা: ১৯৯৬ সালের ৯ এপ্রিল থেকে ২০০০ সালের ৮ মে।
বিচারপতি এ কে এম সাদেক: ১৯৯৫ সালের ২৭ এপ্রিল থেকে ১৯৯৬ সালের ৬ এপ্রিল।
বিচারপতি মো. আব্দুর রউফ: ১৯৯০ সালের ২৫ ডিসেম্বর থেকে ১৯৯৫ সালের ১৮ এপ্রিল।
বিচারপতি সুলতান হোসেন খান: ১৯৯০ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৯৯০ সালের ২৪ ডিসেম্বর।
বিচারপতি চৌধুরী এ.টি.এম. মাসুদ: ১৯৮৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৯৯০ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি।
বিচারপতি এ.কে.এম. নুরুল ইসলাম: ১৯৭৭ সালের ৮ জুলাই থেকে ১৯৮৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি।
বিচারপতি মো. ইদ্রিস: ১৯৭২ সালের ৭ জুলাই থেকে ১৯৭৭ সালের ৭ জুলাই।
এছাড়া দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে নতুন চারজন ছাড়াও ২৭ জন ব্যক্তি নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।


