print news || Dailydeshsomoy

প্রকাশিত,১৫, আগস্ট,২০২১

মো:রফিকুল ইসলাম নড়াইলঃ

লোভি পালিত বাবা দিদারের প্রতারনার শিকার হয়ে প্রান গেল স্কুল ছাত্রী জান্নাতুল জেবা নামের এক স্কুল ছাত্রীর।মানসুরা আক্তার ইতি জানান,আমি এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে ঢাকার ডেমরা কোনা পাড়ায় একটি ভাড়া বাসায় শুখে শান্তিতে বসবাস করতেন এবং মেয়ে জান্নাতুল জেবা (১৪) অষ্টম শ্রেনীতে পড়াশোনা করত,মান্নান হাই স্কুল এন্ড কলেজে।
জেবার মা-বিউটি পার্লারে কাজ করে দুই ভাই বোন কে মানুষের মত মানুষ করতে দিনরাত পরিশ্রম করে দুই ভাই বোন কে মানুষের মত মানুষ করার জন্য চেষ্ট করছিলো।এদিকে জেবার বাবা মাহাতাব উদ্দিন কবির আরেকটি বিবাহ্ করে জেবার মাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন,শুরু হয় কষ্টের দিন,শুরু হয় ছেলে মেয়েকে নিয়ে বেচে থাকার লড়াই, এভাবেই চলতে থাকে জেবার মায়ের সংসার,এক পর্যায়ে মা মানসুরা আক্তার ইতি পার্লারে কাজ করে ছেলে মেয়েদের নিয়ে ভালো ভাবেই দিন পার করছিলেন।হঠাৎ করেই অবোলা ওই নারী মানসুরা আক্তার ইতির সামনে ভালোবাসার শান্তনা নিয়ে হাজির হয় টাউট প্রতারক দিদার,যে আপনি ছেলে মেয়ে কে নিয়ে একা আর কত কষ্ট করবেন,আপনাকে আমি বিবাহ্ করব এবং ছেলে মেয়েদের কে আমি নিজের ছেলে মেয়ে হিসাবে মানুষ করার,দায়ীত্ব আমার,এমন লোভনীয় প্রস্তাবে রাজি হননী মানসুরা আক্তার ইতি।বার বার সামনে এসে এমন ভাবে বলার এক পর্যায়ে অবোলা নারী সন্মান রক্ষা করতে রাজী হন লোভী দিদার কে বিবাহ্ করতে।
এক দিন দিদার মানসুরা আক্তার ইতিকে হাত ধরে নিয়ে গিয়ে কাজি অফিসে বিবাহ্ করে এবং দিদার কে
মানসুরা আক্তার ইতি বলে তুমি আমার বাড়িতে আসতে পারবে না কারন ছেলে মেয়ে রয়েছে ঘরে তুমি কোথায় থাকবে।এভাবেই কয়েক মাস কেটে যাওয়ার পরে অন্য যায়গায় বাসা নিয়ে থাকতে সুরু করে ৪সদস্যের পরিবার এবং ঘরের কোথায় কি সব কিছুই জানে দিদার হঠাৎ একদিন ইতির ও জেবার সকল গয়নাগাটি চুরি হয়ে যায় এবং চুরি করেন পালিত বাবা দিদার,সন্দেহ হলেও প্রমান নেই।এদিকে দিদারের বাড়িতেও ভালো অবস্থা না কিছুদিন পরে দিদার বিদেশে যাবেন বলে দিদারের বাবাকে জানান এবং দিদারের বাবাকে ৪ লক্ষ টাকা মানসুরা আক্তার ইতি দেন স্বামী বিদেশে গেলে আমরাই তো ভালো থাকবো এমন আশায়।
দিদার বিদেশ পাড়ি দিলেন এবং ৮ মাসের মাথায় কান্নাকাটি করা শুরু করে ও মানসুরা আক্তার ইতি ৩৫ হাজার টাকা দিয়ে ব্যাক টিকিট করিয়ে দিদার কে দেশে ফিরিয়ে আনেন।টাউট দিদার মানসুরা আক্তার ইতির দেশের বাড়ির যায়গা বিক্রি করে একটি ছোট পিকআপ কিনে দেন ভালোই চলছিলো,একে একে ৩টি ট্রাক কিনে দেন,এক পর্যায়ে ভন্ড দিদার গাড়ির টাকা ড্রাইভাদের কাছে মিথ্যা বলে চুরি করা শুরু করে এবং ড্রাভারগণ মালিক ইতিকে সব খুলে বলে দেন।
এসব শুনে মানসুরা আক্তার ইতি দিদার কে তার বাসা থেকে বের করে দেন এবং বলে তোমার মত স্বামী দরকার নায় এবং দিদারের ঘরে একটি ছেলে সন্তান হয় সেই ছেলে কে নিয়ে যেতে চাই দিদার কিন্তু ছেলে দিতে রাজি নন ইতি,তখন হুমকি দিয়ে বলে দিদার তোর ছেলে মেয়ে কাউকে আমি বাঁচতে দিবনা বলে বেরিয়ে যায়।

বেশ কিছুদিন পর দিদার আবারও বাসায় ফিরে আসে এবং দিদারের সাথে কেউ কথা বলে না বা খাবার ও কেউ দেয় না।এমন করেই কিছু দিন চলে এবং এর মধ্য মেয়ে জেবা মা ইতি কে বোঝাতে থাকে বাবার সাথে আর রাগ করে থেকোনা, বাবা বাসায় আসলে খাবার দিবা,মেয়ের এমন কথায় দিদার বাসায় আসলে খাবার দিয়ে বুঝিয়ে ভালোভাবে থাকার কথা হয় এবং সবার সাথে মিল হয়ে যায়।এদিকে প্রতারক দিদার বাইরে থেকে সব কিছু রেডি করেই ইতির বাসায় সর্বনাশ করতে ফিরে এসেছে।হঠাত সবাই ঘুমিয়ে আছে ৩০ সেপ্টেম্বার ২০১৯ রাত ১:৩০ মিনিটের সময় দেখি জেবা ঘরে নাই,অনেক খোঁজাখুঁজি করেও জেবাকে পাওয়া যায়নি।
প্রতারক স্বামী দিদারকে নিয়ে থানায় অভিযোগ করা কথা বল্লে ভন্ড দিদার থানায় অভিযোগ করতে নিষেধ করে,পরে ৭ দিনের দিন থানায় অভিযোগ করলে ৮ অক্টবর ২০১৯ আমার মেয়ে খুন হয়েছে বলে থানা অফিসার আমাদের রাত ২টার দিকে থানায় নিয়ে গেলে,আমি জানতে পারি আমার মেয়ের লাশ বেওয়ারীস ভাবে মাটি হয়েছে এবং আমার মেয়ের ছবি পরনের কাপড় ও স্যান্ডেল দেখে চিনতে পারি আমার মেয়ে জেবাকে খুন করেছে।

সকল প্রকার প্রমান আমার স্বামী দিদারের দিকে আসছে কিন্তু পুলিশ দিদার কে ধরছে না,আমি বার বার সোনারগা থানার অফিসার এসআই আজাদ স্যারের কাছে গিয়েছি কিন্তু দিদারকে পুলিশ ধরেনি।আমার বাসা তল্লাশী করার অনুমতি চাই এসআই আজাদ এবং দারগা আজাদ আমার বাসা তল্লাশী করে একটি কার্ডে ২ জন ব্যক্তির নাম ও একটি কাগজে কিটনাশকের নাম লিখা থাকে সেই কিটনাশক দিয়ে মেয়ে জেবা হারানোর রাতে আমাকে অচেতন করে রাখে প্রতারক খুনি দিদার।পুলিশ আমাকে দিদারের সামনেই ঘর তল্লাশীর পরে বলে আপনার মেয়েকে পরিকল্পিত ভাবে আপনার বাসার সদস্যই খুন করেছে বলে পুলিশ চলে যায়।
দিদারের সাথে এ ব্যপারে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে দিদার চিৎকার করে বলে তোর মেয়ে কে না মেরে তোকে মারা উচিৎ ছিলো বল্লে আমি দিদার কে বাথরুমে আটকিয়ে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ দিদারকে ধরে নিয়ে যায় কিন্তু পরে দিদার ছাড়া পেয়ে যায়।

আমার মেয়ে জেবার খুনের তদন্ত ভার বর্তমানে সিআইডিতে রয়েছে,আমি সিআইডির তদন্তের উপরে বিশ্বাস রেখে মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদৃষ্টি আশা করছি,আমি একটা অভাগা মা আপনিও একজন নারী ও মা,আমার মেয়ের খুনি দিদার সহ সকল খুনিদের বিচার করুন বলেও কাঁদতে কাঁদতে মেয়ে হারানোর বিচার চান।পরে খুনি দিদার হুমকী ও ভয়ে দেখিয়ে বলে মামলা না মিটালে আমাকেও মেরে ফেলবে বলে হুমকী দেয়,ভয়ে সন্তনদের নিয়ে আমি আমার নানা বাড়ি গোপালগঞ্জ চলে আসি এবং গোপালগঞ্জে বসবাস করছি বলেও জানান।