print news || Dailydeshsomoy

প্রকাশিত,২৩, জুলাই,২০২১

মো:রফিকুল ইসলাম,নড়াইলঃ

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার এগারো নলী দারুল কোরআন নুরানি হাফেজীয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার মুহতামিম জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে শিশুদের বলাৎকার করার অভিযোগ।এমন নেক্কার জনক ঘটনা জানা যানি হলে,জুম্মার নামাজে খুদবা পড়তে গেলে গ্রামের মুসুল্লিরা অভিযুক্ত মুহতামিম জাহিদুল ইসলাম কে বলেন,আপনার পিছনে নামাজ পড়লে আমাদের নামাজ আল্লাহ কবুল করবে না,আপনি একটা অমানুষ পাপি,আপনি নামাজ না পড়িয়ে পিছনে এসে নামাজ পড়ুন,পরে জাহিদুল নামাজরত অবস্থায় অন্যথ পালিয়ে যান।
এগারো নলী গ্রামের মসজিদের ইমাম কেরামত আলী জানান,মাদ্রাসার ছাত্রদের মুখে এবং মাদ্রাসার শিক্ষকের শিকারোক্তীতে জানা যায় জাহিদুল হুজুর এসব অপকর্ম করেছে ছাত্রদের সাথে,তার সতত্য পেয়েই মাদ্রাসার সভাপতি সাহেব মাদ্রাসাটি বন্ধ করে ছাত্রদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন বলেও জানান।অভিযোগের সত্যতা দাবি করে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় ওই মাদ্রাসার সভাপতি ইউনুছ আলি শেখ তাৎক্ষণিক মাদ্রাসাটি বন্ধ করে দিয়েছেন।
মাদ্রাসার সভাপতি ইউনুছ আলি বলেন,আমার নিজে জমিতে আমি এ মাদ্রাসা নির্মান করেছি যাতে গ্রামের ছেলে মেয়েরা কোরআনের হাছেজ হয় এবং কোরআন শিখতে পারে তার জন্য আমার মেয়ে জামায় জাহিদুল ইসলামকে আমার মাদ্রাসায় নিয়ে আসি এখন যে ঘটনার কথা সুনছি এসব কথা মুখেও আনা যায়না,আমি কোন সময় ভাবিওনি জাহিদুল কে মাদ্রাসা থেকে তাড়িয়ে দিব বলেও জানান।স্থানীয়”রা জানান,এলাকাবাসীর সহযোগিতায় ইসলামী শিক্ষা ও কোরআনে হাফেজ করার উদ্দেশ্যে লোহাগড়া উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল ২০১৭ সালে এগারো নলীতে গড়ে উঠে দারুল কোরআন নুরানি হাফেজীয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা।প্রতিষ্ঠানটি গড়ে উঠার পর থেকে মুহতামিম হিসাবে কাজ করেন মো:জাহিদুল ইসলাম।
হেফজখানা ও নুরানি বিভাগে ২০ জন করে ৪০ জন বিভিন্ন বয়সের ভিন্ন এলাকার শিশুরা ভর্তি হলেও তারা মূলত এলাকাবাসীর বাড়িতে খাওয়া-দাওয়া করে মাদ্রাসায় অবস্থান করে।স্থানীয়”রা আরো জানান,জাহিদুল ইসলাম,মাদ্রাসায় আসার আগে ওর চলা ফেরা ছিলো সাম্মান্য কিন্তু মাদ্রাসার ছেলেদের দিয়ে ইউনিয়নের সকল গ্রাম থেকে সাহায্য ধান,চাল,পাট,মুশুড়ি,কলায়,সরিশা,বাশ সহ বিভিন্য সাহায্য যাকাত উঠিয়ে নিজে মটোরসাইকেল কিনে জমিদারের মত চলাফিরা করে।এসব অনুদান যাকাত সাহায্যের কোন হিসাব কাইকে দেন না,নিজেই আন্তসাত করেন।এগারো নলী গ্রামের তারা মিয়ার ছেলে মাদ্রাসার ছাত্র ইবরাহীম জানান,আমার কাছে দুই তিন জন ছাত্র বলে ভাইয়া বড় হুজুর জাহিদুল ইসলাম প্রতিদিন দুপুরে খাবারের পরে আমাদের ডেকে নিয়ে পা-টিপান এবং আমাদের সাথে অসভ্য খারাপ কাজ করেন,,,,,,,,ধরান।ছাত্র ইবরাহীম বড় হুজুর জাহিদুল ইসলামের স্ত্রী সাহীনা বেগম (হাবীবার) কাছে বিষয়টি খুলে বল্লে ছাত্র ইবরাহীমকে বিষয়টি কেউ যেন না জানে বলে চেপে যেতে বলেন।মাদ্রাসা ও মসজিদের পাসের বাড়ির ডাঃ শওকত জানান,গত (১৬জুলাই) শুক্রবার জুম্মার নামাজ পড়তে গিয়ে দেখি আমার ছেলে পলাশসহ গ্রামবাসি জাহিদুল হুজুরকে খুদবা পড়তে নিষেধ করেন,কারন তিনি মাদ্রাসার ছাত্রদের বলাৎকার করেছেন এজন্য মুছুল্লিগণ তার পিছনে আর নামাজ পড়বে না পরে জাহিদুল নামাজরত অবস্থায় পালিয়ে যায়।মাদ্রাসার হুজুর ইমরান জানান,রাজাপুর গ্রামের ছাত্র ফাহিম,রাহাদ,রোমান এবং ইবরাহীম আমাকে জানায় মাদ্রাসার বড় হুজুর দুপুরে খাবারের পরে মাদ্রাসার ভিতরে হাত-পা টিপাই এবং বাচ্চা ছাত্রদের দিয়ে হুজুরের গোপনাঙ্গ ধরান।আমি গোপনে বাচ্চাদের বুঝিয়ে বড় হুজুর কে তার অন্যায়ের বিষয়ে জানালে তিনি আমাকে বলেন,তুই কি মাদ্রাসার সব,বড় মিয়া হয়ে পড়েছিস যে আমাকে বোঝাতে এসেছিস,তোকে চাকরি আমি দিয়েছি,আমার কথা সুনে চাকরি করবি না হলে ঘাড় ধরে মাদ্রাসা থেকে বের করে দিব বলে হুমকি দেয়।ইমরান হুজুর আরো জানান,এমন নেক্কার জনক পাপ জাহিদুল হুজুর করেছে তার অপরাধের বিচার চাই,যেন আর কোন আলেম সমাজকে এমন জঘন্য অপবাদ শুনতে না হয় একজন পাপি বেক্তির জন্য।রাজাপুর গ্রামের ছাত্র ফাইমের বাবা মো:ইমদাদুল জানান,আমি খবর পেয়ে মাদ্রাসায় এসে দেখি সাংবাদিকসহ এগারো নলী গ্রামবাসি মাদ্রাসা মধ্যে এসব কথা বলাবলি করছে,আমি সবার মূখে সুনেছি যে এসব হয়েছে ছাত্রদের সাথে।জানা যায়,মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার পর থেকে জাহিদুল ১০ থেকে ১২ বছরের শিশুদের বিশেষ করে দুপুরের খাবারের পর পা টেপার কথা বলে মাদ্রাসার মধ্যে বলৎকার করে। কোনো শিশু যাতে ঘটনা অন্যদের না বলে তার জন্য নির্যাতনের স্বীকার শিশুদের সকল শিশুদের সামনে প্রচণ্ড প্রহার এবং জিনের ভয় দেখানো হয়।এদিকে এ ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় শুক্রবার (১৬ জুলাই) বিকালে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এলাকাবাসী মাদ্রাসা বন্ধ ঘোষণা করে। পরে তাৎক্ষনিক ছাত্রদের মাদ্রাসা ছেড়ে চলে যেতে বলেন,মাদ্রাসার সভাপতি মো:ইউসুফ আলি।অপরদিকে মাদ্রাসার মুহতামিম মো:জাহিদুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,আপনি ইনায়েত হুজুরের সাথে কথা বলেন,কেন ইনায়েত হুজুরের সাথে কথা বলবো জবাবে জানান, প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করতে এবং আমাকে মাদ্রাসা থেকে সরাতে আমার বিরুদ্ধে এ মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে,তাহলে আপনি পালিয়ে রয়েছেন কেন জবাব না দিয়েই কৌশলে ফোন কেটে দিয়ে বন্ধ করে দেন।ইনায়েত হুজুরের মোবাইল ফোনে একাধীক বার যোগাযোগ করলে,তিনি ফোন রিসিভ করেন না,এবং ইনায়েত হুজুর মাদ্রাসার সভাপতি ইউনুছ শেখ কে বলেন,আমার নড়াইল সাংবাদিক অফিসের সাথে কথা হয়েছে আর কোন সমস্য নায় বলেও জানান,মাদ্রাসার সভাপতি ইউনুছ শেখ।এদিকে ইনায়েত হুজুর এমন নেক্কার জনক ঘটনার নায়ক তার আত্তীয়স্বজন হওয়ার সুবাতে নড়াইলের নেতাকর্মিদের দিয়ে মিমাংসা করার জন্য সর্বত্য দৌড়ঝাঁপ করছেন।লাহুড়িয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো:দাউদ হোসেন জানান,খবর পেয়ে আমি ছাত্রদের সহ অভিবাবকদের ডেকে এনেছিলাম,কেউ অভিযোগ না করায় আমি সবাই কে বিষয়টি মিমাংসা করে নিতে বলি বলেো জানান।ভুক্তভোগী ছাত্রদের অভিভাবকরা কোনো লিখিত অভিযোগ না দেওয়ায় লাহুড়িয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের আইসি কোনো বক্তব্য দেননি।