print news || Dailydeshsomoy

প্রকাশিত,০৩, জুন,২০২১

সোহাগ হোসেন বেনাপোল প্রতিনিধিঃ

যশোরের বেনাপোল সাদিপুর গ্রামে প্রেমিকার যুগল প্রেমের সম্পর্ক থাকায় প্রেমিক জিহাদী হাসান(২৫)নামে এক ব্যার্থ প্রেমিকের প্রেম প্রত্যাখানে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্নহত্যা করেছে।

বুধবার(২জুন)বিকাল ৫টার সময় বেনাপোল পোর্ট থানার সাদিপুর গ্রামের তাহের আলীর ছেলে জিহাদী ভিডিও কলে রসি টানিয়ে তার প্রেমিকা সানজিদা হক মিম এর নিকট তার শেষ ইচ্ছা জানতে চায় তার প্রেম ধোকা দেবে কিনা না করলে সে আত্নহত্যা করবে বলে জানিয়ে দেয়।

মিম তার ভিডিও কলের সব দৃশ্য দেখেও সে আত্নহত্যা করবে কি না তা তোমার বেপার।এ সব কথা শুনার পর জিহাদী আত্নহত্যার পথ বেছে নেয়।জিহাদী চট্রগ্রাম, এম, এম,ইন্টারপ্রাইজ নামে একটি সিএন্ডএফ কাজ করতো।সেখান তার নিজ রুমে আত্নহত্যা করে ।লাশ বৃহস্পতিবার বিকালে চট্রগ্রাম থেকে বেনাপোলে আসছে বলে তার পরিবার জানায়। এমন ঘটনায় ওই পরিবারে চলছে শোকের মাতম।

যুগল প্রেমের মহানায়িকা মিম বেনাপোল পোর্ট থানার সরবানহুদা গ্রামের সেলিম হকেরর মেয়ে।

জিহাদীর ছোট ভাই মেহেদী হাসান বলেন, প্রায় দুই বছর তার ভাইয়ের সঙ্গে মিম এর সম্পর্ক রয়েছে। সম্পর্কের জের ধরে তার মা ওই বাড়িতে যাতায়াতও করেছে। মিমকে তারা ভাইয়ের সাথে বিয়ে দিতেও ইচ্ছা প্রকাশ করে। ভাই চট্রগ্রাম থাকে আর মিম যশোর লেখা পড়া করায় তাদের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বার্তাও হয়। চট্রগ্রাম থেকে সে মিমকে লেখা পড়ার খরচও দেয়। ভাই জানতে পারে মিম আরো ছেলেদের সাথে প্রেম করে। এ বিষয় নিয়ে সে মিম এর কাছে জানতে চায় তুমি আমাকে বল আমার সাথে বিয়ে করবে কি না , আর না করলে আমি আত্নহত্যা করব। যা রসি ঝুলিয়ে মিমকে দেখিয়ে ভিডিও কলে কথা হয়। মিম ওই রসি দেখেও তাকে না করে দেয় এবং আত্নহত্যা করলে তার কিছু যায় আসে না বলে জানিয়ে দেয়। এরপর জিহাদী গতকাল বুধবার চিটাগাং নিজ রুমে আত্নহত্যা করে।

সরেজমিনে সাদিপুর গেলে স্থানীয় কয়েকজন বলেন জিহাদী অত্যান্ত সরল সোজা ভালো মেধাবী ছেলে। সে ওই মেয়েকে ভালবাসত। এতে তার পরিবারেরও কোন আপত্তি ছিলা না। আর মেয়েটি ইন্টারমিডিয়েড পড়া থেকে প্রেমের অভিনয় করে অর্থও হাতিয়ে নিয়েছে। এছাড়া মেয়ের পরিবার থেকে ছেলের কাছে বিয়ে দিবে বলে দুই লাখ টাকা দাবিও করা হয় বলে তারা অভিযোগ করেন।

মিম এর কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে সে বলে তার সাথে দীর্ঘদিন সম্পর্ক ছিল। সম্প্রতি সে সিগারেট খাচ্ছে এমন কথা শুনে তাকে না বলা হয়েছে অভিমান করে । তার জন্য সে আত্নহত্যা করেছে।

মিমের পিতা সেলিম হক বলেন, মেয়ের সাথে জিহাদীর প্রেমের সম্পর্ক আছে জানি। তবে তাদের সাথে বিয়ে দিতে আমার কোন আপত্তি ছিল না। কেন কি কারনে সে আত্নহত্যা করেছে আমি জানিনা। তাদের নিকট বিয়ে দেওয়া বাবদ ২ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন এটা মিথ্যা কথা।

এ সাংবাদ লেখা পর্যন্ত চিটাগাং থেকে মৃত্যু দেহ বেনাপোল নিজ বাড়িতে এসে পৌছায়নি।

প্রেরকঃসোহাগ হোসেন
বেনাপোল যশোর

৩/০৬/২১