print news || Dailydeshsomoy

প্রকাশিত,২৮ এপ্রিল, ২০২১

স্বপন চন্দ্র রায়,জেলা প্রতিনিধি দিনাজপুর :

ঈদকে সামনে রেখে পার্বতীপুরের বেশ কয়েকটি এলাকায় গড়ে উঠেছে ভেজাল লাচ্চা সেমাই কারখানা। বিএসটিআই এর অনুমোদন বিহীন এসব কারখানায়
নিম্নমানের খাদ্য সামগ্রী দিয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি করা হচ্ছে লাচ্ছা সেমাই। অধিক মুনাফার আশায় সেমাই ভাজার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে পাম ওয়েল, অনুপযোগী নিম্নমানের ময়দা, পোড়া তেল ও স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্নক ক্ষতিকর রং। করোনাকালীন সময়ের স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করে মুখে মাস্ক ও হাতে গ্লোভস ব্যবহার না করেই সেমাই তৈরির কাজ করছে শ্রমিকরা।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে গেলে দু’টি বিস্কুট তৈরির বেকারিতে অবৈধ ও অনুমোদনহীন এসব লাচ্ছা সেমাই তৈরির কর্মকান্ড চোখে পড়ে।
কারখানাসমুহ হলো মোমিনপুর ইউপি’র যশাইমোড় এলাকার মদিনা বেকারী ও মন্মথপুর ইউনিয়নের দ্যাগলাগঞ্জ বাজারের বর্ষা বেকারি।
মদিনা বেকারীর ভেতরে সাংবাদিকদের টিম প্রবেশ করলে দেখা যায় তৈরিকৃত ভেজাল লাচ্ছা সেমাইয়ের মজুদ, সেমাই তৈরির চুলা, পাম ওয়েল ভর্তি অসংখ্য ড্রাম ও নিম্নমানের ময়দার বস্তা।
এব্যাপারে আজ বুধবার বেলা ১১.৪৪ মিনিটে বেকারি মালিক আব্দুল আজিজ এর মুঠোফোনে কথা হলে এবং লাচ্ছা সেমাই তৈরির অনুমোদন আছে কিনা থাকলে লাইসেন্স নম্বর কত এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি কোন সদুত্তোর দেননি।
অন্যদিকে মন্মথপুর ইউপি’র সিদ্ধারির ডাঙ্গায় (বেলতলির ডাঙ্গা) সজেমিনে গেলে দেখা যায় দ্যাগলাগঞ্জ বাজারের বর্ষা বেকারির মালিক বাবলু হোসেন তার বসতবাড়ির একটি স্যাতস্যাতে গোডাউন ঘরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নিম্মমানের সামগ্রী দিয়ে ভেজাল লাচ্ছা সেমাই তেরি করছেন। অতঃপর প্যাকেটজাত করে মজুদ করছেন দ্যাগলাগঞ্জ বাজারের দক্ষিন পাশে জনৈক আফিজুলের গোডাউনে।
এ বিষয়ে বেকারি মালিক বাবলু হোসেনের মতামত চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমার বেকারীর ভেতরের জায়গা সংকট থাকায় নিজ বাড়িতেই লাচ্ছা সেমাই তৈরি করছি। বিএসটিআই কর্তৃপক্ষের নিকট লাচ্ছা সেমাই তৈরির অনুমোদনপত্র চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। আমি কর্তৃপক্ষের মৌখিক অনুমতি নিয়ে পরিক্ষামূলকভাবে লাচ্ছা তৈরি করছি।
এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাশিদ কায়সার রিয়াদ বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে এসব ভেজাল লাচ্ছা সেমাই প্রস্তুতকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।