print news || Dailydeshsomoy

প্রকাশিত,৩১ মার্চ, ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

ডায়াবেটিস রোগীরা রোজা রাখতে পারেন। যাঁদের সামর্থ্য আছে তাঁদের ডায়াবেটিস এমন কোনো বাধা নয়। প্রয়োজন পূর্বপ্রস্তুতি। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সারা বিশ্বের প্রায় ৫০ মিলিয়ন ডায়াবেটিক রোগী রোজা রাখেন। কিন্তু ডায়াবেটিক রোগীদের মধ্যে যাঁরা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া রোজা রাখেন, তাঁরা বেশ কিছু জটিলতার সম্মুখীন হন। যেহেতু একজন রোজাদারকে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত অনেকক্ষণ না খেয়ে থাকতে হয়,তাই কিছু জটিলতা দেখা দিতে পারে।
১. রক্তের সুগার অতিরিক্ত কমে যাওয়া (হাইপোগ্লাইসিমিয়া)
২. সুগার অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়া (হাইপারগ্লাইসিমিয়া)
৩. পানি শূন্যতা এবং
৪.ডায়াবেটিক কিটো-এসিডোসিস। এছাড়া অনেকে এই মাসে রোজা রেখেও বাকি সময় অতিরিক্ত খাওয়া-দাওয়া করেন এবং ব্যায়াম বা হাঁটাচলা প্রায় করেন না। ফলে রক্তের চর্বি এবং শরীরের ওজন বেড়ে যায়, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ অনেক সময়ই থাকে না।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ রাখতে রোজায় খাবারের সময়সূচি পরিবর্তনের সঙ্গে ওষুধ এবং ইনসুলিনের সময় ও মাত্রা পরিবর্তিন করতে হয়।

১. আপনি যদি Metformin জাতীয় ঔষধ যেমন(Comet/ Informet/ Glymin/ Daomin/ Formet)
অথবা, DPP4 inhibitor (Sitagil, Sitagil-M, Vildapin, Vildapin plus, Linaglip, linax, Linaglip-M) জাতীয় ঔষধ খেয়ে থাকেন তাহলে ডোজ পরিবর্তন করার দরকার নেই। শুধুমাত্র আগে আপনি সকালে যে ডোজ খেতেন সেটা এখন ইফতারির পর নিবেন আর আগে রাতে যেটা নিতেন সেটা এখন থেকে সাহরীর সময় খাবেন। আর কেউ যদি ১ বেলা খান এ ধরনের ঔষধ, যেমন মনে করেন সকালে খান তাহলে আপনি এখন সেটা শুধূ ইফতারির পর খাবেন।

২. যারা উপরের ঔষধ গুলোর সাথে বা আলাদাভাবে শুধু Sulphonylurea জাতীয় ঔষধ যেমন (Dimerol/ Secrin/ Amaryl/ Losucon/ Consucon/Gliclid/ Comprid/ CompridXR/Diamicron MR) এগুলা খান তাদের ক্ষেত্রে একটু ডোজ পরিবর্তন করতে হবে।যেমন- যারা এ জাতীয় ঔষধগুলো ২ বেলা নিতেন তারা সকালের ডোজটা নিবেন ইফতারির সময় আর আগে রাতে যে ডোজটা নিতেন সেটা সাহারীর সময় নিবেন ৫০% (মানে আগে রাতে যে ডোজ নিতেন রমযান মাসে এখন ভোর রাতে নিবেন তার অর্ধেক)

এবার যারা ইনসুলিন নেন তারা কি করবেন?
১. যারা Premixed Insulin বা ২ বেলার ইনসুলিন নেন (বাজারে যেটা Mixtard 30/70, Maxsulin 30/70, Insulatard 30/70, Ansulin 30/70, Diasulin 30/70 নামে পাওয়া যায়) তারা আগে সকালে যত ইউনিট ইনসুলিন নিতেন সেটাই নিবেন ইফতারির ১৫-২০ মিনিট আগে, আর আগে রাতে যতো ইউনিট নিতেন সেটার অর্ধেক ডোজ নিবেন সাহরীর সময় খাবার ১৫-২০ মিনিট আগে।

২.যারা উপরের ইনসুলিনের সাথে অতিরিক্ত রাতের বেলা Long Acting Insulin (যেমন, Inslulin lantus, Vibrenta, Levemir) ব্যবহার করেন তাদের জন্য এই ১ বেলার ইনসুলিন আপনি আগে রাতে যত ইউনিট নিতেন এখন রমাযান মাসে সেটা ১৫-৩০% ডোজ কমিয়ে ইফতারির সময় নিতে হবে।

৩.যারা Short acting/ Ultra short acting মানে ৩ বেলার ইনসুলিন ব্যবহার করেন (Actrapid/ Ansulin R/ Humulin R/ Diasulin R নামে যেগুলো বাজারে পাওয়া যায়) তাদের জন্য দুপুরের ডোজটা বাদ দিতে হবে, আগে সকালে যত নিতেন সেটা এখন নিবেন ইফতারির সময়,আর রাতে যত নিতেন সেটার ৫০% নিবেন সাহরির সময় (অর্ধেক)।
তবে, নিজে নিজে পরিবর্তন না করে চিকিত্সকের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।
অনেকে রোজার সময় অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ করেন, অনেকে আবার খুবই অল্প খাবার খান। মনে রাখতে হবে, ডায়াবেটিক রোগীর জন্য দুটিই ক্ষতিকর। এক্ষেত্রে নিচের পরামর্শসমূহ মেনে চলা যেতে পারে- ১.সেহরির খাবার সেহরির শেষ সময়ে খাওয়া
২.ইফতারের সময় বেশি বেশি চর্বিযুক্ত বা মিষ্টিজাতীয় খাবার না খাওয়া
৩.ভাজাপোড়া খাবার অল্প পরিমাণে খাওয়া
৪.পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি ও অন্যান্য তরল গ্রহণ করা
৫.খাদ্যের ক্যালরি ঠিক রাখা এবং পুষ্টিকর খাবার খাওয়া
৬.ইফতারে অতিভোজন এবং সেহরিতে অল্প আহার পরিহার করা।

-ডা. মোঃ সাইফুল আলম।
এম.ডি. (রুদেন ইউনিভার্সিটি)
মস্কো,রাশিয়া।