print news || Dailydeshsomoy

প্রকাশিত,৮ মার্চ, ২০২১

মো:রফিকুল ইসলাম,নড়াইলঃ

তৃতীয় স্ত্রীকে ঘরে তুলতে বাধা দেয়ায় শিক্ষক স্বামীর নির্যাতনে হাসপাতালে মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করছে অন্ত:সত্ত্বা স্ত্রী,নিরাপত্তাহীনতায় ভুক্তোভোগী অসহায় পরিবার।
জাতী গড়ার কারীগর খেত স্কুল শিক্ষক স্বামীর অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে হাসপাতালের বেডে মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করছে ৮মাসের অন্ত:সত্ত্বা প্রথম স্ত্রী ফারজানা বেগম (৩৪)।
বর্তমানে নির্যাতিত ওই নারী খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
শনিবার (৬মার্চ) রাত সাড়ে ৭টার দিকে ঘটনাটি ঘটেছে নড়াইল সদর উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের চারিখাদা গ্রামে।
স্বামী শাহান শাহ সর্দার একমাস আগে তার এক ছাত্রীকে বিয়ে করেছেন এবং এটি তার তৃতীয় বিয়ে,তার পিতার নাম সবদার সর্দার।
জানাগেছে,মাইজপাড়া ইউনিয়নের চারিখাদা গ্রামের সবদার সর্দারের ছেলে মাইজপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গণিত শিক্ষক শাহান শাহ সর্দারের সাথে ২১ বছর আগে ঢাকার সূত্রাপুর এলাকার আব্দুল কাদিরের মেয়ে ফারজানার সাথে বিয়ে হয় এবং তাদের ঘরে ফুটফুটে তিনটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
বড় মেয়ে শাহজাদী মারিয়া,মেঝো মেয়ে শাহ আফরিন,এবং ছোট মেয়ে ফাতেমা।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ফারজানা বেগম বলেন,আমার বিয়ের পর থেকেই আমার স্বামীর বিরুদ্ধে নারী কেলেংকারীর তথ্য জানতে পারি,যেনেও কিছু করতে পারিনি যেহেতু বিয়ে করে ফেলেছি সে কারণে সব মুখবুজে সহ্য করে এসেছি আমার বাচ্চাদের মূখের দিক তাকিয়ে।
বিয়ের ৪-৫ বছর পর অর্থাৎ ২০০৫ সালে পলি নামে এক মেয়েকে সে দ্বিতীয় বিয়ে করে,পরবর্তীতে পরিবার ও আমার অনুরোধে দ্বিতীয় স্ত্রীকে তালাক দিয়ে সংসারে কিছুটা শান্তি ফিরে এসেছিলো।
কিন্তু মাঝে মধ্যেই নারী ঘটিত বিভিন্ন অভিযোগ শুনলেও সেগুলি সহ্য করেছি,সর্বশেষ এবছরের ১ ফেব্রুয়ারি মাইজপাড়া ইউনিয়নের কল্যানখালী গ্রামে তার এক ছাত্রী মারিয়াকে সে তৃতীয় বিয়ে করে।
গত ৬ মার্চ রাত সাড়ে ৭টার দিকে সে তৃতীয় স্ত্রীকে নিয়ে বাড়িতে আসে এবং ঘরে তুলতে যায়।
তখন আমি সহ আমার মেয়েরা বাধা দিলে আমার স্বামী শাহান শাহ সর্দার,তার তৃতীয় স্ত্রী মারিয়া ও আমার সশুর সবদার সর্দার মিলে আমাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন শুরু করে।
আমাকে এলোপাথাড়ি কিল ঘুষি,লাথি মারতে থাকে। তখন আমার মেয়েরা ঠেকাতে গেলে তাদের কেউ মারপিট করতে থাকে,আমার গর্ভে ৮ মাসের সন্তান রয়েছে আমি মেয়েদের বাচাতে গেলে আমার পেটে লাথি মারে এবং আমার প্রচুর ব্লাডিং সুরু হয় এক পর্যায়ে আমি অমানবিক নির্যাতনের কারণে অচেতন হয়ে পড়ি।
নির্যাতিতার মেঝো মেয়ে শাহ আফরিন বলেন,আমার মাকে মারপিট করায় প্রচুর ব্লিডিং হয়েছে,পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় আমরা তিনবোন এ্যাম্বুলেন্স খবর দিয়ে মাকে রাতেই নড়াইল সদর হাসপাতালে নিয়ে যাই। জরুরী বিভাগে ডাক্তার দেখানোর পর তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়,রাত ২টার দিকে আমরা মাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করি,বর্তমানে মা সেখানেই চিকিৎসাধিন রয়েছেন।
মেয়ে আফরিন আরো বলেন,ঘটনার পর বাবা আমাদের ঘরে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে,আমরা এখন কোথায় উঠবো ভেবে পাচ্ছি না,আমাদের বাবা নানাভাবে আমাদের হুমকী ধামকি দিচ্ছেন।
আমার বাবা হলেও তিনি একজন অপরাধী,এ পর্যন্ত তার দ্বারা অন্তত ২৫ জন নারী কলঙ্কিত হয়েছেন,তাই আমরা বাবা হলেও অপরাধির সঠিক বিচার চাই।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শিক্ষক শাহান শাহ সর্দার মুঠোফোনে বলেন,আমি তৃতীয় বিয়ে করায় আমার প্রথম স্ত্রী পরিকল্পিতভাবে এসব করেছে।
কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে তৃতীয় স্ত্রীরির মেয়েরাই আপনাকে ঘরে উঠতে দিচ্ছে না,এমন প্রশ্ন করলে শাহান শাহ ফোন কেটে দেন।
নড়াইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ ইলিয়াস হোসেন (পিপিএম) বলেন,এব্যাপারে থানায় কোন অভিযোগ দেয়া হয়নি,অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে এঘটনার পর থেকে সোশাল মিডিয়ায় খোবের ছায়া নেমে এসেছে এবং তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দোশীকে আইনের আওতায় এনে বিচারের যোঁর দাবী জানান।