
প্রকাশিত, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১
মোঃ বায়েজিদ হোসেন গৌরিপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধিঃ
গৌরীপুর পৌরসভা নির্বাচনের দিন (৩০ জানুয়ারি) নির্বাচন পর্যবেক্ষণের সময়
দুই সাংবাদিক, মাসুদ রানা ও
নুরুজ্জামানের ওপর হামলা, মারধর করে আহত
করা ও ভিডিও করার সময় এনটিভির ক্যামেরা ভাংচুরের করে দুর্বৃত্তরা।
এ ঘটনায়
হামলার শিকার মাসুদ রানা বাদী হয়ে ৮ ফেব্রুয়ারি গৌরীপুর থানায় একটি মামলাটি দায়ের করেছেন।
গৌরীপুর থানার ওসি (তদন্ত) মােহাম্মদ কামাল
হােসেন এই খবর নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজহারের উদ্ধৃতি দিয়ে ওসি (তদন্ত) মােহাম্মদ
কামাল হােসেন জানান, গত ৩০ জানুয়ারী
ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর পৌরসভা নির্বাচন
চলাকালে দুপুর পৌনে একটার দিকে পৌরসভার
০৫ নং ওয়ার্ডের শেখ লেবু স্মৃতি সরকারী প্রাথমিক
বিদ্যালয় ভােট কেন্দ্রে পেশাগত দায়িত্ব পালন
করছিলেন মাসুদ রানা।
এ সময় তার সাথে ছিলেন গাজি টেলিভিশনের
জেলা প্রতিনিধি কাজী মােঃ মােস্তফা, ৭১
টেলিভিশনের ক্যামেরা পার্সন নুরুজ্জামান,
আরটিভির জেলা প্রতিনিধি বিপ্লব বসাক, একুশে টেলিভিশনের বিভাগীয় প্রতিনিধি আতাউর রহমান
জুয়েল, মানবজমিন পত্রিকার স্টাফ রিপাের্টার
মতিউল আলম, দৈনিক করােতােয়া পত্রিকার
জেলা প্রতিনিধি নজিব আশরাফ, মানবজমিন
পত্রিকার ফটো সাংবাদিক ফখরুল আকন্দ, দৈনিক জনতা পত্রিকার গৌরীপুর
উপজেলা প্রতিনিধি শেখ মােঃ বিপ্লব, গৌরীপুর
উপজেলা প্রতিনিধিসহ অনেকেই, পেশাগত দায়িত
পালনে ঘটনাস্থলে যান। এ সময় কেন্দ্রে
মেয়র প্রার্থী সৈয়দ রফিকুল ইসলাম ও শফিকুল ইসলাম হবির সমর্থকদের মধ্যে এক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে,
সেই সময় সাংবাদিকগণ সংর্ঘষের ভিডিও ধারন করতে গেলে
অজ্ঞাতনামা ১০/১৫ জন হামলাকারী বেআইনী
জনতাবদ্ধে হত্যার উদ্দেশ্যে বাঁশের লাঠি, রাম দা
দিয়ে মাসুদ রানা ও একাত্তর টিভির
ক্যামেরা পারসন নুরুজ্জামান এর উপর হামলা
চালিয়ে বেধড়ক মারধর করে, মাসুদ রানার পা, পিট
ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় এবং নুরুজ্জামান এর
শরীরেও বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত কাটা জখমসহ
নিলাফুলা জখম করে।
এ সময় মাসুদ রানার হাতে
থাকা এনটিভির ক্যামেরা ভাংচুর সহ আনুমানিক
৩,৫০,০০০/- (তিন লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকার
ক্ষতিসাধন করে। তাদের ডাকচিৎকারে কেন্দ্রে
থাকা অন্যান্য সাংবাদিকরা তাদের উদ্ধার করে
আহত অবস্থায় গৌরীপুর উপজেলা হাসপাতালে
নিয়া যায়।
গৌরীপুর হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাঃ তাদের প্রাথমিক
চিকিৎসা প্রদান করেন ও উন্নত চিকিৎসার জন্য
মাসুদ রানাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ
হাসপাতালে রেফার্ড করেন।
হামলার পর একাত্তর,যমুনা ও চ্যানেল ২৪ সহ বিভিন্ন টেলিভিশন লাইভ
সম্প্রচার করেছে। পরের দিন, সমকাল, যুগান্তর,
বাংলাদেশ প্রতিদিন, নয়াদিগন্ত, দৈনিক জনতা ও
দৈনিক মানব জমিন পত্রিকায় প্রিন্ট এবং
অনলাইনে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
এছাড়া দেশের প্রথম সারির অনলাইনপাের্টালে
সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সে সব বাদীর
সংরক্ষিত আছে। হামলার পর থেকে সামাজিক
যােগাযােগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন অনলাইন নিউজ
পাের্টালে হামলাকারীদের ছবিসহ সংবাদ
প্রতিবেদন প্রচার হয়েছে। যা হামলাকারীদের
সনাক্ত, তাদের অপরাধ ও ঘটনা প্রমান
বলেও দাবী করেন বাদী মাসুদ রানা।এ বিষরে
গৌরীপুর থানার ওসি (তদন্ত) মােহাম্মদ কামাল
বলেন, অভিযােগ পেয়েছি
সঠিক তদন্ত করে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে
ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


