print news || Dailydeshsomoy

ময়মনসিংহে বিএনপি’র গণসমাবেশ জনসমুদ্রে পরিনত,আগামী জাতীয় নির্বাচন হতে হবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে বললেন-ফখরুল

।।ময়মনসিংহ প্রতিনিধ ঃ

১৫ অক্টোবর ২০২২ ইং শনিবার দুপুর ২টায় পূর্বনির্ধারিত সমাবেশ সফল করতে ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, জামালপুর, শেরপুর ও কিশোরগঞ্জ জেলার নেতাকর্মীরা অংশ নেন বিএনপি’র গণসমাবেশে। বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয় সমাবেশস্থলসহ আশপাশের রাস্তাঘাটগুলো।

ময়মনসিংহের গণসমাবেশে অংশগ্রহন করে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সরকারকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এ ছাড়াও আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই হতে হবে দাবি তুলেন নাহলে বিষয়টি রাজপথেই ফয়সালা হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।

ময়মনসিংহে আয়োজিত বিভাগীয় মহাসমাবেশে শনিবার বিকেলে নিজ বক্তব্যে এসব মন্তব্য করেন ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি, জ্বালানি তেলসহ দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদ এবং পুলিশ ও দুর্বৃত্তের গুলিতে বিএনপি কর্মীদের মৃত্যু, হামলা ও মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে এ মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমাদের দাবি একটাই- দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। দেশনায়ক তারেক রহমানের ওপর থেকে সব রকম মামলা প্রত্যাহার করে দেশে আসার সুযোগ দিতে হবে।

এছাড়াও তিনি বিএনপি’র নেতাকর্মীদের ওপর থেকে সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও কারাগারে থাকা নেতাকর্মীদের মুক্তি দেয়ার দাবি তুলে ধরেন।

আগামী জাতীয় নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। নয় তো ফয়সালা হবে রাজপথে।

ময়মনসিংহ পলিটেকনিকেল ইনস্টিটিউট মাঠে অনুষ্ঠিত গণসমাবেশে ময়মনসিংহ মহানগর বিএনপি’র আহ্বায়ক অধ্যাপক একেএম শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন,দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেত্রীবৃন্দ।

শনিবার দুপুর ২টায় পূর্বনির্ধারিত সমাবেশ সফল করতে ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, জামালপুর, শেরপুর ও কিশোরগঞ্জ জেলার নেতাকর্মীরা অংশ নেন। বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীরা মিছিল করে করে সমাবেশ স্হলে উপস্হিত হয়ে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় মাঠ।

সমাবেশের মঞ্চে একটি সুসজ্জিত সাদা রঙের চেয়ার ফাঁকা রাখা হয়েছিল কিন্তু কেন প্রশ্নের জবাবে নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, প্রতীকী এ আসনটি খালি রাখা হয়েছে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সম্মানার্থে।

পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্যদিয়ে সমাবেশের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।

সভা শুরুর কয়েক মিনিট পর প্রধান অতিথি হিসেবে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মঞ্চে আসন গ্রহণ করেন।

এদিকে সমাবেশকে কেন্দ্র করে নগরীতে প্রশাসনিক জোরদার ছিল চোখে পড়ার মত এবং শত শত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল।

নগরীর বিশেষ বিশেষ প্রবেশ দ্বারগুলো যেমন জিরো পয়েন্ট মোর, সিজিএম কোর্ট এলাকা, শম্ভুগঞ্জ ব্রিজ মোড়, চরপাড়া মোড়,বাইপাশ মোড়সহ নগরীর প্রবেশ মুখগুলোতে সতর্ক অবস্থানে ছিল পুলিশ প্রশাসন।

সার্কিট হাউস মাঠে সমাবেশের অনুমোদন না মিললেও এবং সড়ক পথে যান চলাচল বন্ধ থাকার পরও বিভাগের অন্যান্য জেলা উপজেলা ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীগণ শ্লোগানে শ্লোগানে ফেষ্টুন বেনার নিয়ে মিছিল করে করে পায়ে হেঁটে মূহুর্তে নগরীর পলিটেকনিকেল ইনসস্টিটিউট মাঠে তাদের এআয়োজন জনসমুদ্রে রূপ নেওয়ার মধ্যদিয়ে বিকাল ৫ ঘটিকার সময়ে সমাপ্তি হয়।