print news || Dailydeshsomoy

প্রকাশিত,০৩, নভেম্বর,২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদঃ।

সারা দেশে চলছে তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। তবে এ নির্বাচন ঘিরে সম্প্রতি সহিংসতা বেড়েছে উদ্বেগজনক হারে। প্রতিদিনই বিভিন্ন স্থানে ঘটছে হানাহানি, বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট।

এবারের ইউপি নির্বাচন ঘিরে বিভিন্ন জেলায় সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছে।দলীয় প্রতীকে বিএনপি নির্বাচন না করলেও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এবং
আওয়ামী লীগের নেতাদের কোন্দলে ঘটছে হানাহানির ঘটন, বলছেন নির্বাচন বিশ্লেষকরা। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সহিংসতা বন্ধ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার তাগিদ তাদের।গত ২৮ অক্টোবর নরসিংদীর কাচারিকান্দিতে দুপক্ষের সংঘর্ষে ২ জনের মৃত্যু হয়। আর ১৫ অক্টোবর মাগুরার জগদলে প্রার্থিতা নিয়ে সংঘর্ষে নিহত হয় চারজন। এর আগে, প্রথম ধাপের নির্বাচন ঘিরে সংঘর্ষে অন্তত ৩ জন নিহত হয়। নিহতদের মধ্যে বেশিরভাগই শাসক দলের নেতা ও কর্মী।

দলীয় প্রতীকে বিএনপি ইউপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে না। তাই অধিকাংশ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগের নেতারাই। রাজনৈতিক বিরোধের বদলে প্রাধান্য পাচ্ছে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার। ঘটছে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ।নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম জানান, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সহিংসতা বন্ধে সব ধরণের ব্যবস্থা নিচ্ছে কমিশন।নির্বাচন ঘিরে সহিংসতা বাড়ায় উদ্বগ প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা। নির্বাচন বিশ্লেষক আবু আলম মো. শহিদ খান, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ইসি ও আইনশৃংখলা বাহিনীকে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার তাগিদ তাদের।

এদিকে পুলিশ সদর দফতরের ডিআইজি (অপারেশন ও প্ল্যানিং) হায়দার আলী খান জানান, স্থানীয় পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে প্রতিটি ইউনিয়নে নির্বাচনের নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজানো হয়। মাঠ পুলিশকে সেভাবেই নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কেন্দ্রের নিরাপত্তা ও টহল এবং স্ট্রাইকিং ফোর্সের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য চেয়ে একটি চাহিদা দেয়া হয়। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সে অনুযায়ী সরবরাহ করে। এর বাইরে পুলিশ একটি নিজস্ব নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে কাজ করছে।

আগামী ১১ নভেম্বর দ্বিতীয় ধাপে দেশের ৮৪৬টি ইউপিতে চলবে ভোটগ্রহণ। আর ৩য় ধাপের ইউপি নির্বাচন হবে ২৮ নভেম্বর। এরই মধ্যে দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে দুই ধাপের মনোনীতদের নামের তালিকা প্রকাশ করেছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ।দ্বিতীয় ধাপে ৮৪৮ ও তৃতীয় ধাপে ১০০৭টি ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তাছাড়া ২৮ নবেম্বর
দেশের ১০টি পৌরসভায়ও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তফসিল ঘোষণার পর থেকেই খুনোখুনি, দাঙ্গা-হাঙ্গামাসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কয়েক জেলায় বড় ধরনের সংঘর্ষ, গোলাগুলি ও প্রাণহানি ঘটেছে। সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।