
প্রকাশিত,৮, জুলাই,২০২১
মো:রফিকুল ইসলাম,নড়াইলঃ
নড়াইলে কঠোর লকডাউন বাস্তবায়নে রাস্তা থেকে জনসাধারনকে সচেতন করে ঘরে রাখতে পুলিশ পাঠাচ্ছে বাড়িতে,
কিন্তু ঘরে খাবার না থাকায় পরিবার খাবার যোগাড় করতে পাঠাচ্ছে রাস্তায়,বিপাকে রয়েছে অসহায় গৃহকর্তা,খাবারের হাহাকার জনমনে।
নড়াইলে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অসহায় পরিবারের কর্তাগণ রাস্তায় আসলেই পড়তে হচ্ছে পুলিশি ঝামেলায়।
নড়াইল জেলা পুলিশ সরকারি বিধিনীষেধ মেনে করোনা মোকাবেলায় কঠোর লকডাউন বাস্তবায়নে কঠোর ভুমিকা পালন করছেন,নড়াইল বাসিকে ঘরে রাখতে এবং মহামারি করোনা ভাইরাসের ছোবল থেকে নড়াইলের জনসাধারণকে রক্ষা করতে এরই ধারাবাহীকতায় নড়াইল জেলা প্রশাসন ও নড়াইল জেলা পুলিশ তাদের দায়ীত্ব নিয়ে কঠোর ভুমিকা পালন করছেন।
এদিকে অনুসন্ধানে দেখা যায়,নড়াইলের ইজিবাইক চালক,রিক্সা চালক,ভ্যান চালক,সিএনজি চালক,নসিমন চালক,করিমন চালক,আলমসাধু চালক,ভাড়ায় চালিত মটোরসাইকেল চালকসহ বিভিন্ন যানবাহন ও কৃষক পরিবার,মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যগণ রয়েছে মহা বিপদে,রয়েছে অনেকে অনাহারে।
প্রতিনিয়তই হাহাকার করছে পরিবারের সদস্যগণ,কিভাবে চলবে সংসার, কিভাবে তিন বেলা খাবারের যায়গায় দুবেলা পারবে খেতা এমন চিন্তা করে পার করছে দূর্বিসহ সময়।সকালে ঘর থেকে কর্মের উদ্দেশে রাস্তায় বের হলেই পুলিশি হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে,দিতে হচ্ছে জরিমানা,পেটে ভাত নেই,ঘরে খাবার নেই তবুও প্রশাসনকে দিতে হচ্ছে জরিমানা।
নাম পরিচয় দিতে অনিচ্ছুক একাধীক ব্যক্তী জানান,সকালে না খেয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছি,যে ভ্যান চালাবো বাড়ির বউ ছেলে মেয়ে জানে বাবা বাজার করে নিয়ে আসবে,বাজার করে বাড়ি নিয়ে গেলে রান্না করে সবাই মিলে এক সাথে খাবো কিন্তু ভ্যান নিয়ে কোন দিক যেতে পারছি না,পুলিশ মোড়ে মোড়ে দাড়িয়ে আছে ভ্যান পেলেই ভ্যানের ভালটিউব খুলে হাওয়া ছেড়ে দিবে নাহলে ভ্যান আটক করে থানা বা ফাড়িতে নিয়ে যাবে বলেও জানান।
ইজিবাইক চালাক জানান,এখতো আর নির্বাচন না এখতো আর আমাদের দরকার না,এজন্য কোন নেতা আমাদের মত অসহাদের খোজ খবর নিচ্ছে না,নির্বাচন এলেই আমাদের মত অসহাদের পায়েও ধরে বড় বড় নেতা”রা।সরকার ও আমাদের কিছু দিচ্ছে না এজন্য আমরাও কিছু পাচ্ছি না,সরকার দিচ্ছে তার দলিও নেতাদের,নেতারা নিজেদের গোদাম ভরছে,আমাদের কি দিবে।
আমাদের মাঝে মাঝে একটা করে মাস্ক দিতে এসে ২০-৩০ জন ঘিরে দাড়িয়ে খালি ছবি তুলছে,ছবি না তুলতে হলে আমরা মাস্কও পেতাম না বলেও জানান।মটোরসাইকেল চালক বলেন,চুরিচামারি করে কোথাও যেতে ভয় পাচ্ছি কারন মটোরসাইকেলে চালক ছাড়া আর কাউকে দেখলেই জেল জরিমানা দিতে হচ্ছে বলে কোথাও ভাড়া মারতে পারছি না,এ লকডাউনের মধ্যে ইনকাম নেই,বাড়িতে একটি মেহগুনি গাছ ছিলো সেটা ব্যাপারীর হাতে পায়ে ধরে ৩৬০০ শত টাকা বেঁচে কিছু চাল,ডাল,আলু তেল লবন সহ বাজার করে বর্তমান সময় চলছি,কি করবো বলেন,বাড়ি থাকলে বউ বলে গাড়ি চালাতে যাও গাড়ি চালাতে যাও কি করবো,এজন্য বাড়ি থেকে বের হয়ে ফাকা রাস্তায় সময় কাটিয়ে রাতে বাড়ি যায়।এমন পরিস্থিতিতে আরো ভয়াবহ বিপদে রয়েছে মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যগণ,মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্য”রা পারছে না কারো কাছে হাত পাততে,না পারছে নিম্ন কোন কাজ করতে,পাচ্ছে না কারো সহায়তা,এভাবেই ধুকে ধুকে অনাহারে দিন কাটাচ্ছে হাজারও পরিবার।সাদা জামা আর ভদ্র পোশাক পরে থাকলে তো আর কেউ সাহায্য করবে না,নিবেনা কোন খোজ বলবে ওরা তো ভালোই আছে,দেখলেই বোঝা যায় বলেও কান্নাজনীত কণ্ঠে বলেন।


