
প্রকাশিত
সঞ্জিব দাস, গলাচিপা, পটুয়াখালী, প্রতিনিধি
পটুয়াখালীর গলাচিপায় জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে মো. আজিজ আকন (৬০) ও তাঁর স্ত্রী আসমা বেগম ( ৪৫) আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার পানপট্টি ইউনিয়নের তুলাতলী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
আহত আজিজ আকন তুলাতলী গ্রামের নুরু হোসেন আকনের ছেলে। আহতদের পরিবারের অভিযোগ, আজিজ আকনের চাচাতো ভাই আরিফ আকন, লিটন, সেলিমসহ আট থেকে দশজন তাঁদের ওপর হামলা চালান। এ সময় ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করা হয়। এতে আজিজ আকন ও তাঁর স্ত্রী আহত হন বলে দাবি পরিবারের সদস্যদের।
এ ছাড়া পূর্বের একটি চলমান মামলা তুলে নিতে চাপ প্রয়োগ, জোরপূর্বক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া এবং টাকা দাবির অভিযোগও করেছেন তাঁরা।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত পক্ষের লিটন আকন,জসিম হাওলাদার, ফারুক হাওলাদার, রুহুল হাওলাদার পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, “পাঁচ মাস ধরে জায়গাজমি নিয়ে আমাদের মধ্যে বিরোধ চলছে। আজ সকালে তাঁরা আমাদের হুমকি দেন। এ কারণে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি হয়। এর আগে আমাদের বিরুদ্ধে চারটি মামলা করেছেন।”
জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে উভয় পক্ষের বক্তব্যে উঠে এসেছে। তবে হামলা, জোরপূর্বক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া ও টাকা দাবির অভিযোগগুলোর বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। ইউপি সদস্য মালেক মিয়া বলেন, জমি জমা সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে এ মারামারি। এ বিষয় নিয়ে মামলা হামলাও হয়েছে একাধিকবার। ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদ রানা বলেন,ইউপি সদস্যের মাধ্যমে বিষয়টি আমি শুনেছি। যেহেতু মামলা চলমান আদালতের মাধ্যমে এটা সমাধান হওয়া উচিত।
গন অধিকার পরিষদের পানপট্টি ইউনিয়নের আহবায়ক ও সাবেক ইউপি সদস্য দুধা মিয়া বলেন, বিষয়টি স্থানীয় কোন গণধিকার পরিষদের নেতাকর্মী এখানে আসে নাই। তারা এ কাজের সাথে সম্পৃক্ত নাই। আমরা চাই স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধান করা।
গলাচিপা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নুরুজ্জামান বলেন, “খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। পূর্বের জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে তাঁদের মধ্যে মারামারি হয়। ঘটনাস্থল থেকে আহতদের উদ্ধার করে অ্যাম্বুলেন্সে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠিয়েছি।”গলাচিপা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডাক্তার মেজবাহউদ্দিন বলেন, দুজন ভর্তি হয়েছে। একজনকে আশংকা জনক দেখে ঢাকার রেফার করা হয়েছে। গলাচিপা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



