print news || Dailydeshsomoy

প্রকাশিত,১৪, জুলাই,২০২১

ফয়সাল চৌধুরী, কুষ্টিয়া ঃ

কুষ্টিয়ায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক শফিউল আজম, তার মামাতো ভাই এনামুল ইসলাম ও বালু ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন নিহত হয়েছেন। আজ বুধবার ১৪,জুলাই সকাল ৭টার দিকে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের মধুপুর কলার হাটের কাছে এবং মঙ্গলবার রাতে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী সড়কের মীর মশাররফ হোসেন সেতুর ওপরসহ পৃথক এই দুইটি দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ তিনজনের মৃতদেহ মর্গে পাঠিয়েছে ময়নাতদন্তের জন্যে।

কুষ্টিয়া হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানায়ায, কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় রডবাহী একটি ট্রাক লেগে মোটরসাইকেল আরোহী কলেজশিক্ষকসহ দুজন নিহত হয়েছেন।
বুধবার (১৪ জুলাই) সকালে শফিকুল আজম তার কর্মস্থল সাতক্ষীরা থেকে সকালে মোটরসাইকেল যোগে নিজ গ্রামের বাড়িতে ফেরার উদ্দেশ্যে তাঁর মামাতো ভাইয়ের সঙ্গে করে কুষ্টিয়ার আমলার খয়েরপুরে আসছিলেন। মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন তার মামাতো ভাই এনামুল ইসলাম। পথে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের মধুপুরে নামক স্থানে পৌঁছালে রডবাহী একটি ট্রাক তাদের মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়।
এতে ঘটনাস্থলেই এনামুলের মৃত্যু হয় এবং কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পর শিক্ষক শফিউল আজমের মৃত্যু হয়। নিহত শফিউল আজম সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ছিলেন। তাঁর বাড়ি কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার খয়েরপুর গ্রামে। তিনি খয়েরপুর গ্রামের মৃত ফজলুল হকের ছেলে। নিহত এনামুল পার্শবর্তী চরপাড়াগ্রামের আব্দুল গনি মন্ডলের ছেলে।

নিহত শিক্ষক শফিউলের ভায়রা স্বপন গণমাধ্যমকে জানান, গতকাল মঙ্গলবার মামাতো ভাইকে নিয়ে সাতক্ষীরা গিয়েছিলেন। অসুস্থ মাকে দেখার জন্য শফিউল তার মামাতো ভাই এনামুলকে সঙ্গে নিয়ে সাতক্ষীরা থেকে কুষ্টিয়ার আমলার খয়েরপুরে আসছিল এবং আজ সকালের দিকে মধুপুরে এই দুর্ঘটনার কবলে পড়েন।

তিনি ভায়করোনাকালে কলেজের কাজে মাঝেমধ্যে সাতক্ষীরা যেতেন । দুর্ঘটনার শফিউলের বাঁ পা থেঁতলে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে হাসপাতালে নেওয়ার পর তিনি মারা গেছেন। হোসেন ইমাম আরও বলেন, শফিউলের স্ত্রী ও দুই ছেলে আছে। বড় ছেলে কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র। ছোট ছেলে একই স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে।

এ দিকে গতকাল রাতে কুমারখালীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নাসির বিশ্বাস নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু ঘটেছে। মঙ্গবার রাতে ৯৯৯-এ কল পেয়ে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী সড়কের মীর মশাররফ হোসেন সেতুর উপর থেকে রাত সাঁড়ে ১০টার দিকে পুলিশ নাসির উদ্দিনের মৃতদেহ ও পাশেই তার পড়ে থাকা মোটারসাইকেটিও পুলিশ উদ্ধার করে।পুলিশ এটি সড়ক দুর্ঘটনা বলে মনে করলেও নাসির উদ্দিনের স্বজনরা এটি রহস্যজনক মৃত্য বলে দাবি করছেন।

নাসির উদ্দিনে ভাতিজা বাবু জানান, আমার চাচা শিলাইদহ থেকে রাতে একাই কুষ্টিয়া শহরে ফিরছিলেন। শরীরে আঘাতের চিহ্ন খাকলেও আমরা এটাকে সড়ক দুর্ঘটনা মনে করছি না।

কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি) কামরুজ্জামান তালুকদার জানান, ১৩ জুলাই রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার সময় মীর মশাররফ সেতুর উপর মটর সাইকেল থেকে পড়ে নাসির বিশ্বাসের নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে।তিনি আরো বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হতে পারে। কারন মোটর সাইকেল অনেকদুর ছিটকে পড়ে আছে এবং নিহতের মাথায় আঘাত প্রাপ্ত হয়েছে তার মাথায় কেন হেলমেট পরা ছিলনা।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে নাসির উদ্দিন বিশ্বাস সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। পরিবারের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে লাশের ময়নাতদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।প্রশ্ন ছিলে মামলার হয়েছে কিনা তিনি জানান বিষয়টি এখন হাইওয়ে পুশিলের আন্ডারে।

একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানান , কুষ্টিয়া থেকে মোটরসাইকেল যোগে নিজ বাড়ি ফেরার পথে এই ঘটনাটি ঘটে।
নিহত নাসির বিশ্বাস এর শিলাইদহে এনএসবি নামে একটি ইটভাটা রয়েছে।তিনি শিলাইদহ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন।
শিলাইদহ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য এলাকায় গণসংযোগ চালিয়ে আসছিলেন তিনি।সূত্রটি আরো বলে নিহত নাসির বিশ্বাস একজন বালুর ব্যবসায়ীও ছিলেন।চলতি জুলাই মাসে শিলাইদহ খেয়াঘাট ও শিলাইদহ বালুমহল ইজারা নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। ব্যবসা নিয়ে বেশ কিছু দিন এলাকায় দু’গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল!