কাশিয়ানীতে চাঁদাবাজি ও হত্যার হুমকি: ‘রাসেল বাহিনী’র প্রধানসহ তিনজনের ৫ বছরের কারাদণ্ড,


দেশ সময় প্রকাশের সময় : ২০২৬-০৩-৩১, ১২:৩১ অপরাহ্ন /
কাশিয়ানীতে চাঁদাবাজি ও হত্যার হুমকি: ‘রাসেল বাহিনী’র প্রধানসহ তিনজনের ৫ বছরের কারাদণ্ড,
print news || Dailydeshsomoy

প্রকাশিত

মোঃ শিহাব উদ্দিন গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি। 

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে নির্মাণাধীন একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকির মামলায় ‘রাসেল বাহিনী’র প্রধান মেহেদী হাসান মিয়া ওরফে রাসেল (৩৪) এবং তাঁর দুই সহযোগীকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

একই সঙ্গে তাঁদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও চার মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

রোববার (২৯ মার্চ) দুপুরে গোপালগঞ্জের যুগ্ম দায়রা জেলা জজ আদালতের বিচারক ইয়াছিন আরাফাত এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত অন্য দুই আসামি হলেন কাশিয়ানী উপজেলার খাগড়াবাড়িয়া গ্রামের এস এম সাজিদ ওরফে ইয়াসিন শেখ এবং আব্দুল্লাহ শেখ।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী এম এ আলম সেলিম রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ৮ মার্চ কাশিয়ানী উপজেলার খাগড়াবাড়িয়া এলাকায় নির্মাণাধীন ‘এম এস মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড’-এ গিয়ে রাসেল ও তাঁর সহযোগীরা প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক আজিজুল ইসলাম মিয়াকে খুঁজতে থাকেন। তাঁকে না পেয়ে তাঁরা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার হাতিম আলী মৃধার কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।

এ সময় চাঁদা না দিলে কারখানার নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পরদিন আড়ুয়াকান্দি বাজারে নির্বাহী পরিচালক আজিজুল ইসলাম মিয়ার পথরোধ করে তাঁকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় ১০ মার্চ আজিজুল ইসলাম মিয়া বাদী হয়ে কাশিয়ানী থানায় তিনজনকে আসামি করে মামলা করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাশিয়ানী থানার উপপরিদর্শক শাহ আলম তদন্ত শেষে ১১ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ গ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দণ্ডপ্রাপ্ত রাসেল ওই এলাকার একজন চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তাঁর নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ বাহিনী সক্রিয় ছিল। তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, হত্যা, চুরি ও ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

রায় ঘোষণার পর স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।