print news || Dailydeshsomoy

প্রকাশিত

ইমাম হাসান জুয়েল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ:

সমতলের আদিবাসী ‘তুরি’ জনগোষ্ঠীর সন্তান কাজল পাঁড়ে।১৮তম বিজেএস পরীক্ষায় সহকারী জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে তিনি এক নতুন ইতিহাস গড়েছেন!
ভূমিহীন কৃষক পরিবারের একমাত্র ছেলে কাজল। চরম দারিদ্র্যের কারণে একটা সময় নিজের পড়াশোনার খরচ চালাতে বাবার সঙ্গে দিনমজুরের কাজ করতে হয়েছে তাঁকে। এমনকি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন চান্স পান, তখন ভর্তি হওয়ার টাকা বা একটা ভালো শীতের পোশাক পর্যন্ত ছিল না।

সেদিন তাঁর বড় বোন নিজের পালিত গরু বিক্রি করে ভর্তির টাকা জোগাড় করে দিয়েছিলেন!
পুরো তুরি জনগোষ্ঠীর মধ্যে কাজলই প্রথম ব্যক্তি, যিনি কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পান। তখন সমাজ থেকে অনেকেই বাঁকা চোখে বলেছিল, “তুরির ছেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বে! খাওয়াবে কে? থাকবে কোথায়?”
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েই কাজল প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, তিনি বিচারক হবেন। দিনে ক্লাস আর বিকেলে টিউশনি করে নিজের খরচ চালিয়েছেন, বাড়িতেও টাকা পাঠিয়েছেন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘুমাতেন মাত্র ৪-৫ ঘণ্টা!
পরপর দুইবার ব্যর্থ হলেও দমে যাননি। তৃতীয়বারের চেষ্টায় মেধা তালিকায় ১৪০তম হয়ে ছিনিয়ে এনেছেন নিজের স্বপ্ন! ফল প্রকাশের পর গ্রামে ফিরলে স্কুলের ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা আর গ্রামবাসী রাস্তার মুখে ফুলের মালা নিয়ে দাঁড়িয়ে তাঁকে বরণ করে নেয়।
উত্তরবঙ্গের প্রান্তিক ‘তুরি’ জনগোষ্ঠী থেকে তিনিই প্রথম ব্যক্তি, যিনি জুডিশিয়ারিতে বিচারক হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন।
কাজলের বাবা নরেশ পাঁড়ে বলেন, “হামাদের বেটা যানি অনেক বড় হয়, গরিবের উপকারে লাগে।”
আর কাজল বলেন, “আমি আমার শিকড়কে ভুলব না। এই মাটি, এই মানুষগুলো আমাকে যা শিখিয়েছেন, তা আমি সারাজীবন মনে রাখবো।”
ইচ্ছাশক্তি আর সততা থাকলে ব্যাকগ্রাউন্ড কখনো সাফল্যের পথে বাধা হতে পারে না।স্যালুট কাজল পাঁড়ে! আপনার এই লড়াই কোটি তরুণের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।