print news || Dailydeshsomoy

প্রকাশিত

সঞ্জিব দাস, গলাচিপা, পটুয়াখালী, প্রতিনিধি

পটুয়াখালীর গলাচিপায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার দুপুরে পৌর শহরের স্কুল রোড এলাকার ঐতিহ্যবাহী হাবিব হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে ঘটে এ ঘটনা।
দুপুর তখন আনুমানিক দেড়টা। অন্যান্য দিনের মতোই ব্যবসা চলছিল হোটেলটিতে। ক্যাশ কাউন্টারে বসে ছিলেন প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. আল মামুন।

হঠাৎ করেই রেস্টুরেন্টে হামলা ও ভাঙচুর শুরু হয় বলে জানান তিনি।
আল মামুনের ভাষ্য, ঘটনার আকস্মিকতায় তারা কিছু বুঝে ওঠার আগেই প্রতিষ্ঠানের ভেতরে ভাঙচুর চালানো হয়। এ সময় জানালা, ফ্যানসহ বিভিন্ন মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

হামলার একপর্যায়ে ছোড়া ইটপাটকেলের আঘাতে আহত হন হোটেল ম্যানেজার মো. শফিকুল, কর্মচারী মো. রাকিব এবং পাশের একটি মোবাইল সার্ভিসিং প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. জাকির হোসেন।
আহতদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—কারা এই হামলা চালিয়েছে।
এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি হোটেল মালিকপক্ষ। বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে ঘিরে শহরে রাজনৈতিক কর্মসূচি চললেও, হামলাকারীরা বিএনপির কোনো পক্ষের লোকজন কি না—সে বিষয়েও নিশ্চিত নন আল মামুন।
ঘটনায় হাবিব হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে মালিকপক্ষ।
প্রতিষ্ঠানটির মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে গলাচিপা পৌর শহরের মানুষের কাছে পরিচিত এই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানটি। এমন একটি প্রতিষ্ঠানে দিনের বেলায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এদিকে ঘটনার বিষয়ে গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা দুঃখজনক। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এখন প্রশ্ন উঠছে—দিনদুপুরে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত কারা? রাজনৈতিক কর্মসূচির সঙ্গে এর কোনো সম্পৃক্ততা আছে কি না, নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনো কারণ? লিখিত অভিযোগ ও তদন্তের পরই ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং জড়িতদের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব বলে জানিয়েছে পুলিশ।