
প্রকাশিত
ময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃ
রাতভর টানা ভারী বর্ষণে জলাবদ্ধতায় নাকাল হয়ে পড়েছে ময়মনসিংহ নগরবাসী। মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে বুধবার ভোর পর্যন্ত অব্যাহত বৃষ্টিপাতে নগরীর বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি ও আবাসিক এলাকায় পানি জমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। অনেক এলাকায় বাসাবাড়ির নিচতলা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েন বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যার পর শুরু হওয়া ভারী বর্ষণ বুধবার (৮ জুলাই) ভোর ৪টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। এতে নগরীর আকুয়া, মাসকান্দা, চরপাড়া, কাচিঝুলি, শম্ভুগঞ্জ, নতুন বাজার, গাঙ্গিনাপাড়সহ বিভিন্ন এলাকায় হাঁটুপানি জমে যায়। কোথাও কোথাও ড্রেন উপচে পানি সড়কে ছড়িয়ে পড়ায় যান ও পথচারীদের চলাচল ব্যাহত হয়।
জলাবদ্ধতার কারণে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, রিকশাচালক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। সকালে অফিসগামী ও শিক্ষার্থীদের গন্তব্যে পৌঁছাতে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করতে হয়েছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করায় সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ যানজট। জরুরি প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হওয়া মানুষকেও বৃষ্টির মধ্যেই নানা ভোগান্তি সহ্য করতে হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সামান্য ভারী বৃষ্টিতেই ময়মনসিংহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ড্রেনে ময়লা-আবর্জনা জমে পানি প্রবাহে বাধা এবং নিম্নাঞ্চল হওয়ায় প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি ঘটছে।
নগরবাসীর দাবি, জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার এবং পানি নিষ্কাশন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রোকনুজ্জামান রোকন বলেন, “বৃষ্টি কিছুটা কমে আসায় বিভিন্ন এলাকায় পানি নামতে শুরু করেছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে সিটি করপোরেশনের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। আমি নিজেও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করছি। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতির উন্নতি হবে।”
এদিকে আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় বৃষ্টিপাত আরও কিছু সময় অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে অপ্রয়োজনে বাইরে না যাওয়া এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
নগরবাসীর প্রত্যাশা, প্রতি বর্ষা মৌসুমে পুনরাবৃত্ত এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে দ্রুত ও টেকসই উদ্যোগ গ্রহণ করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।



