
প্রকাশিত,
মোঃ শিহাব উদ্দিন
গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
গোপালগঞ্জ শহরের পাথালিয়া এলাকায় অবস্থিত ‘পিঠা গার্ডেন’ নামের একটি রেস্টুরেন্টকে ঘিরে অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মাদক সেবনের অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা–খুলনা মহাসড়কের পাশেই অবস্থিত রেস্টুরেন্টটি বাইরে থেকে আকর্ষণীয় ও সুসজ্জিত। খাবারের পাশাপাশি সেখানে আবাসিক সুবিধাও রয়েছে। তবে অভিযোগ উঠেছে, এই আবাসিক ব্যবস্থার আড়ালেই দীর্ঘদিন ধরে চলছে অনৈতিক কার্যকলাপ ও মাদক সেবন।
অভিযোগ অনুযায়ী, রেস্টুরেন্টটির কয়েকটি কক্ষে অবৈধভাবে আবাসিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সেখানে বাইরে থেকে নারী এনে দেহব্যবসা চালানো হয় বলেও দাবি স্থানীয়দের। একইসঙ্গে মাদক সেবন ও কেনাবেচার ঘটনাও নিয়মিত ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো—কিছু ক্ষেত্রে কিশোর ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে অভিভাবক ও সচেতন মহলে উৎকণ্ঠা বাড়ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, প্রায় প্রতিদিনই সেখানে সন্দেহজনক যাতায়াত লক্ষ্য করা যায়। এতে এলাকার সামাজিক পরিবেশ ও যুবসমাজ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারা দ্রুত প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রেস্টুরেন্টটির ভেতরে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছেলে-মেয়েরা জোড়ায় জোড়ায় বসে রয়েছে। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেতেই অনেকে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে, যা সন্দেহকে আরও জোরালো করে তোলে।
এদিকে সরেজমিন পর্যবেক্ষণে আরও দেখা গেছে, রেস্টুরেন্টটিতে বর্তমানে রং ও সংস্কারের কাজ চলছে। নতুনভাবে সাজিয়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন—এটি শুধুই ব্যবসা সম্প্রসারণের অংশ, নাকি বিতর্ক এড়াতে নতুন কৌশল—তা নিয়ে রয়েছে নানা জল্পনা।
অভিযোগের বিষয়ে রেস্টুরেন্টটির মালিক ফারুক হোসেন বলেন,
“আমরা মূলত রেস্টুরেন্ট ব্যবসা পরিচালনা করি। কেউ ব্যক্তিগতভাবে কোনো অনৈতিক কাজে জড়ালে তা সবসময় আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে না।”
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। তাদের মতে, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে এলাকায় সামাজিক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।



