print news || Dailydeshsomoy

প্রকাশিত

সঞ্জিব দাস, গলাচিপা, পটুয়াখালী, প্রতিনিধি

নির্বাচনী পরীক্ষায় (টেস্ট) সব বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার পরেও কোনো রকম ফরম পূরণ ছাড়াই এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন এক শিক্ষার্থী। পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার উলানিয়া হাট উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এমন একটি অস্বাভাবিক ও রহস্যময় ঘটনার জন্ম দিয়েছে। এ ঘটনায় স্কুল কর্তৃপক্ষ, কেন্দ্র সচিব এবং বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে দেখা দিয়েছে ধোঁয়াশা।

অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর নাম আসিকুর রহমান। তার বাবা জামাল হোসেন ও মা নার্গিস পারভিন।

জানা গেছে, উলানিয়া হাট উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল ১০২ জন শিক্ষার্থীর। স্কুল কর্তৃপক্ষ নির্বাচনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের ফরম পূরণের সুযোগ দিয়েছিল। কিন্তু নির্বাচনী পরীক্ষায় ১৪৭ জন শিক্ষার্থী অংশ নিলেও অকৃতকার্য ৪৫ জনের ফরম পূরণ করা হয়নি। অথচ, সেই ৪৫ জনের তালিকার বাইরে থাকা শিক্ষার্থী আসিকুর রহমান কীভাবে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মো. মাহফুজুর রহমান জানান, ওই শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেনি এবং বিদ্যালয় থেকে তার জন্য কোনো সুপারিশ পাঠানো হয়নি। তিনি বলেন, “বোর্ডের অনলাইন সিস্টেম চালু থাকার পরেও কী প্রক্রিয়ায় সে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে প্রবেশপত্র সংগ্রহ করল, তা আমার বোধগম্য নয়। আমি কোনো কাগজপত্রে স্বাক্ষর করিনি।” এ নিয়ে অধ্যক্ষ বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে লিখিত অভিযোগও জানিয়েছেন।

গলাচিপা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় (কেন্দ্র কোড: ৩৫১) সূত্রে জানা গেছে, উলানিয়া হাট উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০৩ জন শিক্ষার্থী ওই কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছে। কেন্দ্র সচিব ও প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) আলমগীর হোসেন জানান, আসিকুর রহমান মানবিক শাখায় পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে (রোল নং: ৯৯০০৩২, রেজি: ২৩১৫১৯৪৭১৪)।

কেন্দ্র সচিব আরও জানান, শিক্ষা বোর্ডের অনলাইন হাজিরা সিটে ওই শিক্ষার্থীর নাম নেই। তবে তার কাছে বৈধ প্রবেশপত্র ও রেজিস্ট্রেশন কার্ড থাকায় বিশেষ ব্যবস্থায় তার উপস্থিতির জন্য আলাদা হাজিরা সিট তৈরি করা হয়েছে।

এদিকে, আসিকুর রহমানের হাতে প্রবেশপত্র দেখে ওই বিদ্যালয় থেকে বাদ পড়া অন্য ৪৪ জন শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন। তারা অধ্যক্ষের কাছে তাদের সন্তানদের পরীক্ষার সুযোগ দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করছেন।

বিষয়টির সত্যতা যাচাইয়ে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক জি এম সহিদুল ইসলাম জানান, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আগামী সোমবার বোর্ডে উপস্থিত থাকতে বলেছি। তদন্তে অপরাধ বা জালিয়াতির প্রমাণ মিললে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অস্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় একজন অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাওয়া এবং বোর্ডের সিস্টেমে তার নাম না থাকা সত্ত্বেও প্রবেশপত্র ইস্যু হওয়া—এই পুরো ঘটনাটি এখন স্থানীয় শিক্ষামহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।