

প্রকাশিত
স্টাফ রিপোর্টার:
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার বীরতারা ইউনিয়নে এক অসহায় বৃদ্ধার বয়স্ক ভাতার টাকা আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রাহাত সুমন বাবুর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে টাকা ফেরত দিলেও, পরবর্তীতে ভুক্তভোগী পরিবারকে হিন্দু ধর্মাবলম্বী হওয়ায় নানাভাবে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই নেতার বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বীরতারা ইউনিয়নের চারগাঁও গ্রামের প্রশান্তর ওরফে চন্ডির মায়ের নামে আসা বয়স্ক ভাতার টাকা তার মোবাইল ব্যাংকিং ‘নগদ’ অ্যাকাউন্টে জমা হয়। তিন দিন আগে টাকা আসার মেসেজ আসলেও প্রশান্ত যখন টাকা তুলতে যান, তখন দেখেন অ্যাকাউন্টে কোনো ব্যালেন্স নেই। বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হলে তিনি একই এলাকার নগদ এজেন্ট শহিদুলের শরণাপন্ন হন।
এজেন্ট শহিদুল তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় পরীক্ষা করে দেখতে পান যে, টাকাটি আসার পরপরই অর্থাৎ তিন দিন আগে অভিযুক্ত রাহাত সুমন বাবুর ব্যক্তিগত নগদ এজেন্ট নম্বর থেকে উত্তোলন করে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর প্রশান্ত অভিযুক্ত বাবুর কাছে টাকা চাইতে গেলে তিনি তা সরাসরি অস্বীকার করেন।
পরবর্তীতে এজেন্ট শহিদুল সমস্ত প্রমাণাদি নিয়ে বাবুর কাছে গেলে নিজের অপরাধ ঢাকতে তিনি মাত্র ১ হাজার টাকা দিয়ে পুরো বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার প্রস্তাব দেন। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হলে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় স্থানীয় সাংবাদিকরা বিষয়টি অনুসন্ধানে বাবুর কাছে যান। সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে কোণঠাসা হয়ে বাবু তাৎক্ষণিকভাবে শহিদুল ও প্রশান্তকে তার দোকানে ডেকে আনেন এবং বকেয়া ৯৫০ টাকা পরিশোধ করে দেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাংবাদিকরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পরপরই বাবুর সুর পাল্টে যায়। টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ভুক্তভোগী প্রশান্ত ও তার পরিবারকে হিন্দু ধর্মাবলম্বী হওয়ার সুযোগ নিয়ে নানাভাবে গালাগালি ও এলাকা ছাড়ার হুমকি প্রদান করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারটি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। স্থানীয়রা এই ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযুক্ত যুবদল নেতার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এবিষয়ে রাহাত সুমন বাবুর সাথে কথা বলতে গেলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে শহিদুল ও ভুক্তভোগী প্রশান্ত কে ডেকে এনে বাকী ৯শত ৫০ টাকা ফেরত দিয়ে বলেন তার সাথে আমার কোন ঝামেলা নেই।
এবিষয় নিয়ে বীরতারা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি স্বাধীন মোল্লা বলেন, আমি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি না হয়ে যদি দলের সদস্যও হই তারপরেও এর কোন ছার হবে না। আমি তার বিরুদ্ধে এখনি ব্যাবস্থা নিচ্ছি।
এবিষয়ে বীরতারা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইসরাফিল আলম বলেব, এই ঘটনাি খুবই ন্যাক্কারজনক। আমি তো বিষয়টি দেখবোই আপনারা একটু উপজেলা যুবদলের সভাপতি এবং সাধারন সম্পাদকের সাথে কথা বলুন। আমি চাই এটার যেন একটা দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি হয় যাতে করে পরবর্তীতে এই কাজ আর কেউ করার সাহস না পায়।


















আপনার মতামত লিখুন :