
প্রকাশিত,১৭, ফেব্রুয়ারি,২০২৩
সুমন আহমেদঃ
গত ১১ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সারা দেশে ইউনিয়ন পর্যায়ে পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করে। কোথাও স্বাভাবিক আবার কোথাও হামলা প্রতিরোধের মুখে দেশব্যাপী এই কর্মসূচি পালন করা হলেও চাঁদপুরের মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ উপজেলায় বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাদের নেতৃত্বে এই কর্মসূচি কোন ইউনিয়নেই পালিত হয়নি- এমন অভিযোগ উঠেছে।
শুধু তা-ই নয় কেন্দ্র ঘোষিত ওই কর্মসূচি পালন না করে ওই এলাকার নেতারা পিকনিকের নামে মোজ মাস্তিতে মত্ত ছিলেন -এমন অভিযোগও উঠেছে। ওই পিকনিকে দায়িত্বশীল নেতাদের উদ্দাম নৃত্যের ভিডিও ইতোমধ্যে ভাইরাল হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রকৃত ঘটনা জানতে চাঁদপুর-২ আসনে বিএনপি’র টিকেটে গত জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ড. মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন সহ ৯ জনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় বিএনপি।
একই ঘটনায় বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব হাবীবুন্নবী খান সোহেলকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় বিএনপি’র বেশ কয়েকজন নেতার সাথে আলাপ করে জানা গেছে, গত ১১ ফেব্রুয়ারি, শনিবার দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান’র নির্দেশক্রমে সারা দেশে ইউনিয়ন পর্যায়ে পদযাত্রা কর্মসূচি পালিত হয়। বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী লীগ ও প্রশাসনের বাঁধার মুখে তৃণমূল বিএনপি নেতাকর্মীরা এই কর্মসূচি পালন করে। সংসদীয় আসন চাঁদপুর-২ মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল এর বর্তমান কমিটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ড. জালাল উদ্দিনের উপস্থিতিতে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও রিসোর্টে পিকনিক এবং আনন্দ উৎসব করেন।
সেই আনন্দ উৎসবের একটি ভিডিও ভাইরাল হলে স্থানীয় নেতা কর্মীদের মাঝে ব্যাপক আলোড়ন এবং বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। তৃণমূল থেকে কেন্দ্রে পৌঁছে সেই অভিযোগ। দলের শৃঙ্খলা রক্ষা এবং তৃণমূল নেতা কর্মীদের ক্ষোভ প্রশমিত করতে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান’র নির্দেশে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া স্বাক্ষরিত পত্রে কারন দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়।
ওই নোটিশে কেন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবেনা তা জানাতে ৩ দিনের সময় বেঁধে দেয়া হয়।
কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রাপ্তরা হলেন, বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও চাঁদপুর-২ আসনে বিএনপি’র টিকেটে গত জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ড. মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন, মতলব উত্তর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি ফজলুল হক সরকার হান্নান, মতলব উত্তর উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক নুরুল হক জিতু, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি ও সাবেক মেয়র এনামুল হক বাদল, মতলব দক্ষিণ উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি এমদাদ হোসেন খান, মতলব উত্তর উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলমগীর সরকার, ছেঙ্গারচর পৌরসভা বিএনপি’র সভাপতি নান্নু মিয়া প্রধান, ছেঙ্গারচর পৌরসভা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান এবং মতলব উত্তর উপজেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক মিয়া মঞ্জুর আমিন স্বপন।
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ড. মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন সহ ৯ জনের বিরুদ্ধ কেন্দ্রীয় কমিটির কারণ দর্শানোর নোটিশের সত্যতা জানতে নির্বাহী কমিটির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়ার সাথে মুঠোফোনে আলাপকালে তিনি জানান, এটি সাংগঠনিক বিষয়।
সংগঠনের শৃঙ্গলা রক্ষার্থে কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হয়। সংগঠনের শৃঙ্খলা রক্ষায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও চাঁদপুর-২ আসনে বিএনপি’র টিকেটে গত জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ড. মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন বলেন, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও এলাকায় ‘হৃদয়ে মতলব’ নামে একটি সংগঠন আয়োজিত পিকনিকে অংশগ্রহণ করি। যেহেতু আমরা ভোটের রাজনীতি করি, সেহেতু সবার মন রক্ষা করেই আমাদের চলতে হয়। মতলববাসীর মন রক্ষা করতেই আমি এবং আমার সফর সঙ্গীরা পিকনিকে অংশ গ্রহণ করি। দলীয় কর্মসূচি বাদ দিয়ে আনন্দ ফূর্তির অভিযোগ সঠিক নয়।
চাঁদপুরের মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ উপজেলায় বিএনপি’র কেন্দ্র ঘোষিত ১১ ফেব্রুয়ারির কর্মসূচি পালন না করে নেতা কর্মীদের মোজ মাস্তি করা এবং পরবর্তীতে শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে কেন্দ্রীয় কমিটি কর্তৃক স্থানীয় ৯ নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রসঙ্গে জেলা বিএনপি’র সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক’র বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি জানান, এই বিষয়টি সরাসরি কেন্দ্র থেকে করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে আমাদের এর সাথে কোন সম্পৃক্ততা নেই। আর কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে বিষয়ে আমার কিছু বলা ঠিক হবে না। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সাথে এবিষয়ে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।
এদিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এর কঠিন নির্দেশনার পরও এমন একটি দিনে দলবল নিয়ে আনন্দ উৎসব আর ফূর্তি উদযাপনে মত্ত থাকায় চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ) আসনের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া এবং ক্ষোভ বিরাজ করছে।


