
প্রকাশিত,২৭, আগষ্ট,২০২২
শাহাদাত হোসেন রাসেল
নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ
সারাদেশে জ্বালানি তেল, গ্যাসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও ভোলায় দুই নেতা হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে নোয়াখালীর চাটখিলে আয়োজিত সভায় আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হামলার অভিযোগ করেছেন বিএনপি।
উভয় পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া ও সংঘর্ষে পথচারীসহ আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। ভাঙচুর করা হয়েছে বিএনপির সভার মঞ্চ ও একটি পিকআপ।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন যুবলীগ ও পুলিশ।
২৬ই আগস্ট শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে বিএনপির নেতাকর্মীরা সভাস্থলে আসার পথে চাটখিল বাজারে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বাধা দেয়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পরে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনের নেতৃত্বে চাটখিল বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করে দলের নেতাকর্মীরা।
জানা গেছে, জ্বালানি তেল, গ্যাসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি ও ভোলায় দুই নেতা হত্যার প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ শুক্রবার বিকেল ৩টায় চাটখিল কামিল (এমএ) মাদরাসা প্রাঙ্গণে এক প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে বিএনপির ও অঙ্গসংগঠন।
দুপুর ২টার দিকে মাদরাসা সংলগ্ন চাটখিল কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জুমার নামাজ শেষে বিএনপির নেতাকর্মীরা সভাস্থলে জড়ো হতে থাকে।
এর কিছুক্ষণ পর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কয়েকজন সেখানে হামলা চালিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের ধাওয়া করে সভার মঞ্চটি ভেঙে দেয়। এরপর চাটখিল বাজারের বিভিন্ন স্থানে দফায় দফায় দুই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এসময় প্রধান সড়ক দিয়ে সোমপাড়ায় ফুটবল খেলতে যাওয়ার পথে হামলাকারীদের হামলার শিকার হয় একটি পিকআপ গাড়ি ভাঙচুর এবং গাড়িতে থাকা অন্তত ১০ জনকে পিটিয়ে জখম করে। এছাড়া উভয় দলের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে আহত হয়েছে অন্তত আরও ৭জন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
বিএনপি’র কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, জুমার নামাজের পর অর্তকিত হামলা চালিয়ে সভা মঞ্চ, চেয়ার ভাঙচুর করে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পুলিশের উপস্থিতিতে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর চাটখিলবাজার, পাল্লা বাজার, কুলশ্রীগ্রামে, আজিম সাহেবের পোল, দশঘরিয়া বাজার, শাহাপুর, হাট পুকুরিয়া, বদলকোট বাজারসহ পথে পথে দফায় দফায় হামলা ও সমাবেশে যোগদানে বাঁধা চালানো হয়।
উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আনিছ আহমেদ হানিফ বলেন, হামলায় চাটখিলের সাবেক মেয়র মোস্তফা কামাল, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট হানিফ, সদস্য সচিব শাহজাহান রানা, জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ রানা, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক ফারুকসহ বিএনপির অন্তত ৩০-৩৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন চলবে বলেও ঘোষণা করেন তিনি। ঢাকাস্থ চাটখিল জিয়া ঐক্য পরিষদের সভাপতি গোলাম মোস্তফা সেলিম অভিযোগ করে বলেন, সমাবেশ উপলক্ষে রাত্রে থেকে পুলিশ নেতা কর্মীদের বাড়ীতে হানা দিয়ে বিনা ওয়ারেন্টে উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ওমর ফারুক, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মোবারক হোসেন পাপ্পু, যুবদল নেতা আরিফ ভূঁইয়া ও খিলপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকসহ ১০জন কে আটক করে। আমি তাদের নিঃশর্ত মুক্তি চাই।
ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিনের অভিযোগ অস্বীকার করে চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গিয়াস উদ্দিন বলেন, চাটখিলের কোথাও বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর কোন হামলা হয়নি। হামলা হয়েছে এমন দাবি করে কেউ থানায় কোনো অভিযোগ করেননি।


