print news || Dailydeshsomoy

প্রকাশিত,২৫ এপ্রিল, ২০২১

সামিউর, কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজার টু হাকিমপুর রোডের সাদিকপুর ধর্মতলা বাজারের ২টি দোকান অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে গেছে। একটি হলো গার্মেন্টের দোকান ও আরেকটি সেলুনের দোকান।
বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডে এ ২টি দোকানের মালামার পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে ১১ লক্ষ টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ক্ষতিগ্রস্থ দোকান মালিকেদের।
বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার বারোবাজার ইউনিয়নের ধর্মতলা মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্থ অসহায় গার্মেন্টস মালিক দেবেন্দ্র দাসের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৯ সালে জমি, গরু বিক্রি ও বেসরকারি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে কাপড়ের ব্যবসা চালু করেন।
কিন্তু ঋণ পরিশোধ করার আগেই তার স্বপ্ন পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এখনও চলছে লোনের কিস্তি। পুনরায় ব্যবসায় দাঁড়ানোর মতো অবস্থা নেই তাদের। চোখের সামনেই সাজানো স্বপ্ন পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
গ্রামীন এলাকাতে আর কোন গার্মেন্টেসের দোকান না থাকাতে ভালোই চলছিল কাপড়ের ও সেলুনের দোকান। এ ২টি দোকান আপন দু’ভায়ের। তাদের নাম দেবেন্দ্র দাস ও রুবেন দাস।
অল্পদিনেই দাঁড়িয়ে গিয়েছিল ব্যবসাটা। দেবেন্দ্র উপজেলার বারোবাজার ইউনিয়নের সাদিকপুর গ্রামের মৃত অনিল চন্দ্র দাসের ছেলে। এই দোকানের উপর নির্ভর করে চলতো তার ৬ সদস্যের সংসার।
তার বড় ছেলে তাপস দাস প্রতিবন্ধী, বয়স ১৫ বছর, নবম শ্রেনীতে পড়াশুনা করে স্থানীয় এক প্রতিবন্ধী স্কুলে। ছোট লিখন দাসের বয়স ১১ বছর।
দোকান ২টি পুড়ে যাওয়ায় পুরো পরিবারটি এখন নির্বাক। চোখে মুখে হতাশার চিহ্ন। এই অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে গেছে দেবেন্দ্রর আপন ছোট ভাই রুবেন দাসের সেলুনের দোকান। তিনি বলেন,আমার ৪ সদস্যের সংসার চলে এই সেলুনের দোকানের আয়ের টাকায়, দিন আনা, দিন খাওয়া আমার সংসার।
যেদিন কাজ না হয়, সেদিন আমাদের না খেয়ে থাকতে হয়। এক কেজি চাউলও নাই আমাদের ঘরে। ব্যুরো বাংলা থেকে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ঋণ এবং ৪ টা ছাগল বিক্রয় করা টাকা দিয়ে আমার এই সেলুনের দোকান করা।
কালীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের ষ্টেশন কর্মকর্তা ডা: শেখ মামুনর রশিদ বলেন, বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। স্থানীয় মানুষ ও ব্যবসায়ীরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছায়ে ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই।