
প্রকাশিত
আয়নাল ইসলাম।
ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলাধীন পাগলা থানাকে ‘দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা’ হিসেবে অনুমোদন দেওয়ায় এলাকাজুড়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে।
দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলের বাসিন্দারা এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। স্থানীয়দের আশা, নতুন উপজেলা বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রশাসনিক সেবা জনগণের আরও কাছাকাছি পৌঁছাবে এবং অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নতুন গতি সঞ্চার হবে।
বুধবার (১ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১২১তম সভায় ছয়টি প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। এর মধ্যে গফরগাঁও উপজেলার অন্তর্গত পাগলা থানাকে ‘দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা’ হিসেবে অনুমোদনের প্রস্তাবও রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাগলা থানার আটটি ইউনিয়ন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পৃথক উপজেলা গঠনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন এলাকাবাসী।
ভৌগোলিক বিস্তৃতি, জনসংখ্যা এবং প্রশাসনিক সেবা সহজলভ্য করার প্রয়োজনীয়তার কথা বিবেচনায় এনে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে দাবি উত্থাপিত হয়। অবশেষে নিকার সভায় প্রস্তাবটি অনুমোদিত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ও সন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
দক্ষিণ গফরগাঁওয়ের বাসিন্দারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা সদর থেকে দূরবর্তী এলাকার মানুষকে নানা সরকারি সেবা গ্রহণে ভোগান্তি পোহাতে হতো। নতুন উপজেলা বাস্তবায়িত হলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ভূমি ও সামাজিক নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন সরকারি সেবা দ্রুত ও সহজে পাওয়া যাবে।
স্থানীয় সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী মো. আব্দুল হালিম বলেন, “এটি দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। সরকারের এই সিদ্ধান্তে আমরা আনন্দিত। উপজেলা বাস্তবায়ন হলে এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রম আরও বেগবান হবে।”
পাগলা এলাকার বাসিন্দা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা হওয়ায় মানুষের বহু বছরের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। এখন দ্রুত প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।”
এদিকে সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দনের বার্তা ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারাও এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের মতে, প্রায় দুই শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে এ অঞ্চল গফরগাঁও উপজেলার অংশ হিসেবে পরিচিত ছিল। নতুন প্রশাসনিক বিন্যাসের ফলে উত্তর গফরগাঁও ও দক্ষিণ গফরগাঁও—এই দুই পরিচয়ের মাধ্যমে এলাকার প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে, যা স্থানীয় উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এলাকাবাসী দ্রুত গেজেট প্রকাশ ও উপজেলা কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারের এ সিদ্ধান্তের কার্যকর বাস্তবায়ন দেখতে চান।