
প্রকাশিত,১০ জানুয়ারি ২০২২
খুলনা প্রতিনিধি ঃ
খুলনার কয়রায় একই সাথে বাবা-মা ও মেয়েকে হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। বিকৃত যৌনলালসা, প্রতারনামূলক আর্থিক লেনদেন ও পরকীয়া সম্পর্কের টানাপোড়নে এ ট্রিপল হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়।
জেলা পুলিশ মোহাম্মদ মাহবুব হাসান এ তথ্য জানিয়েছেন। এরই মধ্যে হত্যাকান্ডে দায় স্বীকার করে আব্দুর রশিদ গাজী (৩৪) নামে এক আসামী জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়া আরও পাঁচ আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।
জানা যায়, ২০২১ সালের ২৫ অক্টোবর রাতে কয়রার বাগালী ইউনিয়নের বামিয়া গ্রামের হাবিবুর রহমান (৩৬), তার স্ত্রী বিউটি খাতুন (৩২) ও মেয়ে হাবিবা খাতুন টুনি (১২) কে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
পরের দিন সকালে বাড়ির পাশে পুকুর থেকে তাদের লাশ উদ্ধার হয়।
এ ঘটনায় মামলা হলে পুলিশ বামিয়া গ্রামের জিয়াউর রহমান, রাজিয়া সুলতানাসহ ৭ জনকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। কিন্তু ওই সময় কোন তথ্য উদঘাটন হয়নি।
পরে গত ৮ জানুয়ারি যশোর থেকে বামিয়া গ্রামের আব্দুর রশিদ গাজীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
ওই হত্যাকান্ডের পর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন। তার স্বীকারোক্তিতে বামিয়া গ্রামের পল্লী চিকিৎসক সাইফুল্লাহ, শাহীন, আব্দুল হক, তাসলিমাসহ আরও ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এরই মধ্যে আব্দুর রশিদ গাজি আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।
পুলিশ সুপার জানান, আসামী জিয়াউর রহমান ও রাজিয়া সুলতানার সাথে অবৈধ সম্পর্কে বাধা দেয়ায় হাবিবুর রহমানকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। গত ২৫ অক্টোবর রাতে জিয়াউর ও সামছুর নেতৃত্ব হাবিবুর, তার স্ত্রী ও মেয়েকে হাত-পা বেধে এবং হাবিবুরের স্ত্রী-মেয়েকে ধর্ষনের পর হত্যা করা হয়। পরে তাদের মৃতদেহ পানিতে ফেলে দেয়া হয়। সংশ্লিষ্ট অন্য আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়া হবে।
###
বাাবুল আকতার
খুলনা।