
প্রকাশিতঃ০৪ ডিসেম্বর ২০২১
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
জাওয়াদের প্রভাবে বৃষ্টি শুরু সুন্দরবনে
ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাব দেখা দিতে শুরু করেছে সুন্দরবনে। শনিবার সকাল থেকেই শুরু হয়েছে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি। সকাল থেকেই মুখভার আকাশের। পূর্ণিমার ভরা কোটালের জেরে এরই মধ্যেই সুন্দরবনের ভারতীয় অংশের নদীগুলোতে পানি বাড়তে শুরু করেছে।
গত দুটি ঘূর্ণিঝড় আম্ফান ও ইয়াসের জেরে সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল সুন্দরবনের নদীবক্ষে চলা লঞ্চ ও ভুটভুটিগুলোও।
ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস পেয়ে লঞ্চ নিরাপদ জায়গায় এরই মধ্যেই নোঙর করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মৎস্যজীবীদের নদী থেকে উঠে আসতে বলা হয়েছে পাশাপাশি আগামী দু’দিন যেন তারা নদী বা সমুদ্রে মাছ ধরতে না যান সেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
‘জওয়াদ’ উত্তর ও উত্তর-পূর্ব দিকে বাঁক নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এটি বাঁক নিয়ে রোববার উড়িষ্যা উপকূলের পুরিতে পৌঁছাতে পারে এবং ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে যেতে পারে৷ এরপর এটি আরও দুর্বল হয়ে উত্তর ও উত্তর-পূর্ব দিকে পশ্চিমবঙ্গ উপকূলের দিকে এগোতে পারে।
সাগরের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় ‘জাওয়াদ’র গতিপথ কিছুটা আঁকাবাঁকা। এটি একেবারে উপকূলের কাছে এসে বাঁক নেবে। তবে এটি আর শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।
এদিকে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘জাওয়াদ' আরও উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে।
এটি শনিবার সকাল ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে এক হাজার ৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল।
জাওয়াদ আরও উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কছে সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে
জানা গেছে, এবারের ঘূর্ণিঝড়টির নাম ‘জাওয়াদ’। সৌদি আরবের দেওয়া এই ঘূর্ণিঝড়ের অর্থ উদার বা মহান।
বর্তমানে ঘূর্ণিঝড়টি ১০ দশমিক ২ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ ও ৯৮ দশমিক ১ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অবস্থান করছে। থাইল্যান্ডের ফুকেট শহর থেকে প্রায় ২৫০ কিলোমিটার দূরে সমুদ্রে অবস্থান করছে।
সমুদ্রের যে স্থানে অবস্থান করছে সেই স্থানের পানির তাপমাত্রা ২৯ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড (সাড়ে ২৬ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের বেশি পানির তাপমাত্রা থাকলে তা ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির জন্য আদর্শ পরিবেশ হিসেবে গণ্য করা হয়)। ওই স্থানের বায়ুর গতিবেগও আদর্শ অবস্থায় রয়েছে।
কানাডার সাসকাচুয়ান ইউনিভার্সিটির আবহাওয়া ও জলবায়ুবিষয়ক বাংলাদেশি পিএইচডি গবেষক মোস্তফা কামাল সংবাদমাধ্যমকে জানান, ঘূর্ণিঝড়টি ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ ও ওড়িশা রাজ্যের মাঝা-মাঝি স্থানের উপকূলে পৌঁছার পরে উত্তর-পূর্ব দিকে ঘুরে বাংলাদেশের উপকূলের দিকে যাত্রা করতে পারে।
এদিকে বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানার আশঙ্কার কথাই বলছে আমেরিকার নৌবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত জয়েন্ট টাইফুন ওয়ার্নিং সেন্টার।