
প্রকাশিত,২৫,আগ,২০২১
দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি ঃ
দিনাজপুর জেলার চিরির বন্দর উপজেলায় মা ও ছেলেকে অপহরন করে ৫০লক্ষ টাকা মুক্তিপন দাবীর অভিযোগে রংপুর সিআইডি জোনের এএসপি সারোয়ার কবীর সহ ৫জনকে আটক করেছে পুলিশ।গত ঙ্গলবার বিকালে দিনাজপুর সদর উপজেলার বাঁশের হাট থেকে জনতা ও গোয়েন্দা পুলিশের হাতে তারা আটক হন। বুধবার বিষয়টি সম্পর্কে সকলে অবগত হয়।
আটককৃত অন্যরা হলেন-সহকারি উপপরিদর্শক (এএসআই) হাসিনুর রহমান ও কনস্টেবল আহসান উল ফারুক এবং চিরির বন্দর নিবাসী ফসিউল আলম পলাশ ও হাবিব মিয়া।
পুলিশ ও ভুক্তভোগীর স্বজন সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার রাত নয়টার দিকে চিরিরবন্দর উপজেলার নান্দেডাই গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে মা জহুরা বেগম ও ছেলে জাহাঙ্গীরকে ডিবি পুলিশের পরিচয়ে ফিল্মি স্টাইলে মাইক্রোযোগে অপহরণ করা হয়। এ সময় মা ও ছেলেকে মারপিটও করেন অপহরণকরীরা।
সন্তানসহ জহুরা বেগম নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় বাড়ির লোকজন র্যাব, ডিবি পুলিশসহ বিভিন্ন জায়গায় আটকের বিষয়ে খোঁজ নেন। কিন্তু কেউ আটকের বিষয়ে কিছু জানেন না বলে তাদের জানান। পরে অপহরণকারীরা মোবাইলে জহুরা বেগমের স্বামী লুৎফর রহমান ও দেবর রমজানের কাছে প্রথমে ৫০ লাখ এবং পরে ১৫ লাখ টাকা এবং সর্বশেষ ৮লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন।
কথামত মঙ্গলবার বিকালে বাঁশের হাট হাজি দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে মুক্তিপণের টাকা দিতে যান স্বামী লুৎফর রহমান ও দেবর রমজান আলী। তদের সঙ্গে সিভিল পোশাকে যান পুলিশ। পুলিশ রয়েছে টের পেয়ে অপহরণকারীরা মাইক্রোবাস নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় ১০ মাইল নামক স্থানে জনতা ও পুলিশ তাদের ধরে ফেলে। অভিযানে জেলা পুলিশ ও চিরিরবন্দর থানার পুলিশ অংশ নেয়।
আটকের পর পুলিশ জানতে পারে অপহরণকারীদের মধ্যে রংপুর সিআইডি জোনের এএসপি সারোয়ার কবীর,সহকারি উপপরিদর্শক (এএসআই) হাসিনুর রহমান ও কনস্টেবল আহসান উল ফারুক এবং দুজন সাধারন ব্যক্তি ফসিউল আলম পলাশ ও হাবিব মিয়া। তাদেরকে দিনাজপুর ডিবি অফিসে রাখা হয়েছে।
অপহৃত মা জহুরা বেগম ও ছেলে জাহাঙ্গীরকেও ডিবি অফিসে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাখা হয়েছে। বুধবার বিকাল পর্যন্ত এ ব্যাপারে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দিনাজপুর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেছেন, ঘটনার বিস্তারিত পরে জানানো হবে। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রংপুর সিআইডির কাছে পলাশ নামে এক ব্যক্তি চিরিরবন্দর উপজেলার আব্দুলপুর ইউনিয়নের নান্দেড়াই গ্রামের গাদুশা পাড়ার জনৈক চ্যালেঞ্জ মৌলানার ছেলে লুৎফর রহমানের বিরুদ্ধে ৫০ লাখ টাকার প্রতারণার অভিযোগ আনেন। এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত সোমবার দিবাগত রাতে সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার মো. সারোয়ার কবির সোহাগ, এএসআই হাসিনুর রহমান ও কনস্টেবল আহসান উল ফারুক, ফসিউল আলম পলাশ ও হাবিব মিয়া লুৎফরের বাড়িতে যান। তাকে না পেয়ে তার স্ত্রী ও ছেলেকে কালো মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যান।
এ বিষয়ে রংপুর সিআইডির পুলিশ সুপার আতাউর রহমান গণমাধ্যমকে বলেছেন, অভিযুক্তরা কোনো প্রকার অনুমতি না নিয়ে সেখানে (চিরিরবন্দর) গেছেন। তাদের আটকের বিষয়টি শুনেছি। তারা কেন সেখানে গেছে, কাকে অপহরণ করেছে, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নিয়ে তদন্ত স্বাপেক্ষে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ ঘটনায় চিরিরবন্দর থানায় দুপুর দুইটা পর্যন্ত কোনো মামলা না হলেও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, পুলিশ সুপারের নির্দেশনা মোতাবেক মামলা দায়ের প্রস্তুতি চলছ।