
প্রকাশিত,২৭, জুন,২০২১
ফয়সাল চৌধুরী, কুষ্টিয়াঃ
কুষ্টিয়া পৌর বাজারে গিয়ে দেখা যায়
কঠোর লকডাউনেও চলছে করোনা এবং বাজার প্রতিযোগিতা।এই হচ্ছে বাজারের অবস্থা। কোথায় এখানে সামাজিক দূরত্ব? নারী-পুরুষ সমানে চলছে বাজারে কেনাকাটার প্রতিযোগিতা। যেখানে বাইরে চলছে লকডাউন। দোকানপাট, ব্যবসা-বাণিজ্য, যোগাযোগ ব্যবস্থা সবই বন্ধ। বহু মানুষের জীবিকা নেই। মধ্যবিত্ত পরিবার ও দরিদ্র শ্রেণীর মানুষের মধ্যে চলছে হাহাকার। তার ওপর বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে তাগিদ দিয়ে শহরে মাইকিং করা হচ্ছে চলতিসহ বকেয়া বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করার। এছাড়া অনেক পরিবারেই রয়েছে করোনা উপসর্গের রোগী। এমন পরিস্থিতিতে এক শ্রেণীর মানুষ বাজারে নেমেছে কেনাকাটার প্রতিযোগিতায়। তাদের অবস্থা এমন যে, ‘মরতে যদি হয় খেয়েই মরবো, না খেয়ে নয়’।
বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে কুষ্টিয়া পৌর বাজারে গিয়ে দেখা যায় ইতোমধ্যেই মাছ-মুরগী-মাংসের অনেকটায় সাবাড় হয়ে গেছে। অসংখ্য নারী-পুরুষ সমানতালে করছে কেনাকাটা। তাদের মধ্যে সামাজিক দূরত্বের কোন বালাই নেই। অথচ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা জরুরী। অর্থাৎ অন্যদের কাছ থেকে নিজেকে কমপক্ষে এক মিটার বা তিন ফুট দুরে রাখা। ভিড় এড়িয়ে চলা। ভিড়ের মধ্যে গেলে কোভিড-১৯ আক্রান্ত কারো সংস্পর্শে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে এবং অন্যদের থেকে এক মিটার দূরত্ব বজায় রাখাটাও সম্ভব হয় না। অবশ্য এসব কথা আমরা সবাই জানি। কিন্তু মানছি না। দেশের মানুষকে করোনার এই মহামারি থেকে বাঁচানোর চেষ্টায় সামনে আবার আসছে কঠোর লকডাউন। এ দিকে কুষ্টিয়ায় আগামী ১ জুলাই পর্যন্ত লকডাউন বৃদ্ধির নির্দেশ দিয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া সদর -৩ আসনের এমপি মাহবুবউল আলম হানিফ।
উল্লেখ্য ১ জুন থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত কুষ্টিয়ায় ৬ হাজার ৯৩৯টি নমুনা পরিক্ষা করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ২ শত ২২ জন।এ সময় মারা গেছেন ৭২ জন।এরই মধ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়ে পরেন কুষ্টিয়ার কয়েক জন চিকিৎসক।
ফকির লালন সাঁইজি একটি গানের মাধ্যমে বলে গেছেন “সময় গেলে সাধন হবে না,,।
এ যেন ফকির লালন সাঁইজির গানের সাথে বাস্তবে মিলে যাচ্ছে কুষ্টিয়ার বর্তমান করোনা পরিস্থিতি । কুষ্টিয়ায় গত ৩ জুন কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডাঃ এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম কুষ্টিয়া জেলাকে লোকডাউন করার জন্য জেলার কর্তাদের উদার্থ আহবান জানিয়েছিলেন।সেই সময় জেলার কর্তারা রাজি হননি।করোনা পরিস্তিতি আরো খারাপ হলে ৮ দিন পর ১১ জুন কুষ্টিয়া পৌর এলাকায় ৭ দিনের জন্য কঠোর বিধি নিষেধ জারি করেন জেলা প্রশাসন।
কিন্তু ওই সাতদিন কঠোর বিধি নিষধাজ্ঞা ঢিলেঢালাভাবে চলতে থাকে ।পরে ধীরে ধীরে কুষ্টিয়ার করোনার পরিস্তিতি ভয়াবহ থেকে ভয়ংকর রুপ ধারন করে। ছড়িয়ে পরে শহর থেকে গ্রামে।
এ দিকে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সাংসদ মাহবুব উল আলম হানিফ হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে অক্সিজেন ভর্তি সিলিন্ডার সরবরাহ করেছেন। পুলিশ সুপার সারাদিন রাস্তায় রাস্তায় মানুষকে তেরে বাড়ী পাঠিয়েছেন এবং ডাক্তাররা বিশ্রামহীন রোগীদের চিকিৎসা করে যাচ্ছেন। মানবতার সেবাই বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কুষ্টিয়া জেলা শাখার পক্ষ থেকে করোনা ওয়াড়ে দীর্ঘ ৪১০ দিনের বেশী সময় ধরে শেখ হাফিজ চ্যালেঞ্জ এঁর নেতৃত্বে সেবা প্রদান করে যাচ্ছেন কুষ্টিয়া জেলার ছাত্রলীগের সেচ্ছা সেবক কর্মীরা।
এই শহরের করোনা পরিস্থিতি ভালো হতে হলে সবার আগে আমাদের সবাইকে ভালো হতে হবে।সাস্থ্যবিধি নিষেধ, মাক্স , সামাজিক দুরুত্ব এক কথায় যা যা নিয়ম আছে তা সবাইকে মানতে হবে।কুষ্টিয়া শহরের একটু বাইরে হরিপুর,বাড়াদি ,জগতি, মুল্লা তেঘরিয়াতে সন্ধ্যার পরে এখনো মানুষের জটলা বাঁধে।দোকানের শাটার নামানো দোকানের মালিক দোকানের সামনে বসে শুধু বলতে হবে ভাই এই জিনিসটা দিন দেওয়ার জন্য প্রস্তুত।
সন্ধ্যার পরে পুলিশ রাস্তার থেকে উঠে গেলে টিনএজদের ঈদ বেধে যায় ।
তাই এই শহরের মানুষদের দোষটা সরকারের ও প্রশাসনের না দিয়ে একবার ভাবুন আমরা কি করছি ? আমরা কি আমাদের দায়িত্ব পালন করছি? আমরা জানি করোনাভাইরাসে স্বজন হারানোর ব্যথা কি।