
প্রকাশিত,১৫, জুন,২০২১
মোঃ বাবুল নেত্রকোণাঃ
নেত্রকোণা মদন উপজেলার শাহ-আলমের ছেলে রিজান(১৭) নামের ইজিবাইক চালককে খুন করেছে একই উপজেলার মোড়লবাড়ির ইজিবাইক ছিনতাইকারী সাগর(২৪)। এলাকাবাসী এবং পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের ন্যায় ইজিবাইক নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয় রিজান মিয়া।
গত মংগলবার সকালে নাস্তা করে বাড়ি থেকে বের হয় ইজিবাইক নিয়ে। কিন্তু গভীর রাত হওয়ায় পরিবারের লোকজন বিভিন্ন জায়গায় অনেক খুঁজাখুঁজি পর না পেয়ে পরদিন মদন থানায় রিজানের বাবা শাহ-আলম জিডি করেন। তবে বৃহস্পতিবার বিকালে খেটে খাওয়া কয়েকজন কৃষক খাগুরিয়া গ্রামের পাটক্ষেতের ভিতরে অর্ধ গলিত একটা লাশ দেখতে পেয়ে থানায় খবর দিলে ঘটনাস্থলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে নেত্রকোণা হাসপাতাল মর্গে পাঠান এবং এই লাশ রিজানের তা তার পরিবার সনাক্ত করেন। ঠিক পরেরদিন রিজানের ইজিবাইক মদন উপজেলার বটতলা বাজার থেকে উদ্ধার হয়। এই লোম-হর্ষক হত্যাকান্ডের ঘটনায় মৃত রিজানের বাবা শাহ-আলম অজ্ঞাত আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মদন থানা-পুলিশের পাশা-পাশি নেত্রকোণা জেলার সাহসিক পুলিশ সুপার আকবর আলী মুন্সীর দিক-নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা(ডিবি) পুলিশ এই জঘন্য হত্যাকান্ডের তদন্ত চালায়।
জেলা গোয়েন্দা শাখা(ডিবির) সাহসিক সাব-ইন্সপেক্টর ফরিদ আহম্মদের নেতৃত্বে একটি চৌকস টিম গত শনিবার আটপাড়া উপজেলার সুখারী ইউনিয়নের সোনাজুর বাজারে এক ভাংগারি দোকান থেকে ছিনতাই হওয়া ইজিবাকের ব্যাটারি গুলি উদ্ধার এবং সন্দেহ মূলকভাবে ৫জনকে আটক করে। আটকৃতদের তথ্য মোতাবেক রবিবার রাত ৯টার দিকে নারায়নগঞ্জ জেলার ফতুল্লা পাগলা বস্তি এলাকা থেকে হত্যাকান্ডে জড়িত অভিযোগে সাগর মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। পিতার দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ডিবির সাব-ইন্সপেক্টর দক্ষ পুলিশ অফিসার ফরিদ আহম্মেদ বলেন, পুলিশি ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামি সাগর বলে, আমরা ৩জন রিজানের ইজিবাইক যাত্রী সেজে ভাড়া নিয়ে মদন খাগুরিয়া এলাকায় এনে রাস্তার নিচে পাটক্ষেতের ভিতরে নিয়ে গলায় দড়ি লাগিয়ে খুন করি। বাকি ২ জন হত্যায় জড়িত আসামীর নাম এবং পুলিশি কতটুকু তৎপর এই বিষয়ে জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) তাজুল ইসলাম বলেন, বাকি দুই আসামীকেও অচিরেই গ্রেফতার করতে সক্ষম হবো তবে তদন্তের স্বার্থে এবং গ্রেফতার সফল না হওয়া পর্যন্ত তাদের নাম বলা যাবে না।