
প্রকাশিত,২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২১
মো:রফিকুল ইসলাম,নড়াইলঃ
নড়াইল সদর হাসপাতালের শহীদ মিনারের বেহাল দঁশা,হাসপাতাল কর্তিপক্ষের নেই কোন সুনজঁর এবং কোন হাসপাতালে সহিদ মিনার কোথাও দেখি না জানালেন,নড়াইল সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আব্দুর সাকুর।
ভাষাশহীদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানানোর জন্য নড়াইল স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ(স্বাচিব) ২০১৩ সালে সদর হাসপাতাল চত্বরে শহীদ মিনার নির্মাণ করে। প্রতি বছর হাসপাতালের চিকিৎসক,নার্সসহ কর্মচারিদের উদ্যোগে ২১শে ফেব্রুয়ারিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয় কিন্তু এবার কেন কি কারনে ওই শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়নি।
এ ব্যাপারে মুক্তিযোদ্ধাসহ সচেতন নাগরিক ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।
বিষয়টি জানতে চাইলে সদর হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়ক আব্দুর সাকুর বলেন,শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই শহীদ মিনার থাকে।
হাসপাতালে শহীদ মিনার থাকে কোথাও দেখি না। তিনি আরো বলেন,জেলা প্রশাসকের নির্দেশে শহীদদের স্মরণে আমরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মাল্যদান করেছি। সে কারণে হাসপাতাল চত্বরের শহীদ মিনারে মাল্যদান করা হয়নি।
এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন,শহীদ মিনারে মাল্যদান কর্মসূচির টিম লিডার ছিলেন আরএমও,আপনি তার সঙ্গে কথা বলে দেখতে পারেন।
এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন,হাসপাতালে মাত্র তিন জন পরিচ্ছন্ন কর্মী আছেন,এর মধ্যে একজনের ক্যান্সার হয়েছে,যে কারণে হাসপাতাল চত্বর ঠিকমত পরিস্কার –পরিচ্ছন্ন করা হচ্ছে না।
২১ ফেব্রুয়ারির দুপুরে সরেজমিন দেখা গেছে,ফাকা শহীদ মিনারের সামনে কুকুর ঘোরাফেরা করছে,শহীদ মিনারের চারপাশে ময়লা আবর্জনা ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে,টাইলস দ্বারা নির্মিত শহীদ মিনারে কেউ পুষ্পমাল্য দেয়নি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের কয়েকজন কর্মচারি বলেন,জসিম স্যার ২০১৩ সালে হাসপাতালের প্রবেশদ্বারের পাশেই সুন্দর একটি শহীদ মিনার নির্মাণ করেছিলেন।
প্রতি বছর রাত ১২.১ মিনিটে তার নেতৃত্বে আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণ করতাম,তখন নানা অনুষ্ঠানও হতো।
বদলি জনিত কারণে তিনি নেই,যে কারণে এখানে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়নি।
তারা আরো বলেন,হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা মানুষজন জুতা স্যান্ডেল পায়ে শহীদ মিনারের ওপর বসে বিশ্রাম করে।
প্রত্যক্ষদর্শী আইনজীবি রাজিব আহম্মেদ জানান,২১ ফেব্রুয়ারির রাত ১২.২৫ মিনিটের সময় হাসপাতাল চত্বরে গিয়ে দেখা গেছে শহীদ মিনারসহ তার চারপাশে কোনো ঝাড়ু দেওয়া কিংবা পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়নি।
কাউকে শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য দিতে দেখা যায়নি। পরদিন সকালেও একই অবস্থা দেখা গেছে।