
বিএনপি ও সমমনাদের ডাকা হরতাল-অবরোধকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামে ২৮৫ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে বিএনপি। গত ২৯ অক্টোবর থেকে ৯ নভেম্বর পর্যন্ত এসব নেতাকর্মী গ্রেফতার করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরীর থানাগুলোতে ১৩টি গায়েবি মামলা হয়েছে বলেও দাবি করেছে বিএনপি।
বৃহস্পতিবার (৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির দপ্তরের দায়িত্বে থাকা ইদ্রিস আলী এসব দাবি করেন। গতকাল বুধবার সন্ধ্যা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বিএনপির ২০ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ইদ্রিস আলী বলেন, সরকার পতনের একদফা দাবি, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম ও স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে তৃতীয় দফার অবরোধের শেষদিন বৃহস্পতিবার নগরী ও জেলার বিভিন্ন স্থানে মিছিল, সমাবেশ ও সড়ক অবরোধ করেছেন চট্টগ্রাম বিএনপির নেতাকর্মীরা। অবরোধ চলাকালে বাকলিয়া থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আলমগীরকে বুধবার সন্ধ্যায় গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ।
তিনি বলেন, তাছাড়া মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সম্পাদক ওয়াকিল হোসেন বগা, আব্দুর রহমান, ফখরুল ইসলামকে খুলশী থানা পুলিশ, আকবর শাহ থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব তৌসিফ আহমেদ চৌধুরীকে ডিবি পুলিশ ও পূর্ব ষোলশহর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাইদ ইসলাম বাপ্পিকে চান্দগাঁও থানা পুলিশ বুধবার রাতে গ্রেফতার করেছে। একই রাতে উত্তর হালিশহর ওয়ার্ড যুবদল নেতা সাগর রেজা ও হালিশহর থানা ছাত্রদল নেতা রিফাত বিন আলমগীর ফারুককে হালিশহর থানা পুলিশ, পাঠানটুলী ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আমজাদ হোসেন আরজুকে সদরঘাট থানা পুলিশ, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক নুর আলমকে ডিবি পুলিশ এবং বন্দর থানা বিএনপি নেতা মো. কাঞ্চন ও ৩৭নং ওয়ার্ড যুবদল নেতা জাবেদকে বড়পুল থেকে গ্রেফতার করে বন্দর থানা পুলিশ।
অন্যদিকে চাক্তাই সোবহান সওদাগর এলাকা থেকে নগর ছাত্রদলের সাবেক সহ-সম্পাদক জাবেদ হোসেন হিরুকে বাকলিয়া থানা পুলিশ, পাঁচলাইশ থানা যুবদল নেতা মোহাম্মদ রেজাউলকে পাঁচলাইশ থানা, কোতোয়ালি থানা যুবদল নেতা কফিল উদ্দিন ও পাথরঘাটা যুবদল নেতা সুব্রত আইচকে গ্রেফতার করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ।
ইদ্রিস আলী বলেন, অবরোধ-হরতালকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় ১৩টি নতুন গায়েবি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় এ পর্যন্ত ২৮৫ জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি বিএনপির নেতাকর্মীদের ঘরে ঘরে তল্লাশি চালিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপিকে মাঠ ছাড়া করতে সরকার আবারও নেতাকর্মীদের নামে গায়েবি মামলা ও গ্রেফতার শুরু করেছে। ঘরে ঘরে তল্লাশির নামে পরিবারের সদস্যদের হয়রানি করছে।