
প্রকাশিত
সঞ্জিব দাস, গলাচিপা, পটুয়াখালী, প্রতিনিধি
পটুয়াখালীর গলাচিপা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট চৌকি আদালতের প্রসেস সার্ভারের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে টাকা নেওয়ার অভিযোগে সংবাদ প্রকাশের পর তাকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সফিউল আলম নামের ওই প্রসেস সার্ভারের টাকা নেওয়ার একটি ভিডিও সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সময়ের কন্ঠস্বরে প্রকাশিত হলে বিষয়টি আলোচনায় আসে। ভিডিওতে দেখা যায়, একটি চুরির মামলার বাদীর কাছ থেকে স্বাক্ষীর স্বাক্ষর দেওয়ার জন্য ৬০০ টাকা দাবি করা হয়। ভুক্তভোগী ২০০ টাকা দিতে চাইলে অভিযুক্ত দরকষাকষি করেন এবং এক পর্যায়ে ২০০ টাকা গ্রহণ করেন। ঘটনাটি প্রকাশের পর এলাকায় সমালোচনার ঝড় ওঠে।
ভিডিওতে ভুক্তভোগী মুক্তা বেগম অভিযোগ করে বলেন, ২০২২ সালের একটি চুরির মামলায় স্বাক্ষী নিয়ে তিনি আদালতে যান। স্বাক্ষ্যগ্রহণ শেষে পেশকার রুমে স্বাক্ষর দিতে গেলে তার কাছে ৬০০ টাকা দাবি করা হয়। তিনি টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি জোরাজোরি করেন একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে ২০০ টাকা দেন বলে জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, আদালতে স্বাক্ষর দিতে কোনো টাকা লাগে—এটা আমার জানা ছিল না। আদালত তো সরকারি প্রতিষ্ঠান, কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে টাকা ছাড়া কাজ করতে চায় না পেশকার রুমের লোকজন।
এ ঘটনায় সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাতেই চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পটুয়াখালী মো. মামুন-অর-রশিদ স্বাক্ষরিত এক আদেশে অভিযুক্তকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে ‘ক্লোজ’ করা হয়। পরে জনস্বার্থ ও প্রশাসনিক কারণে তাকে পটুয়াখালী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নেজারত শাখায় বদলি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ভিডিওটি চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নজরে এলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং অভিযুক্তকে দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে বিরত (সাসপেন্ড) করা হয়। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গলাচিপা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের জিআরও আবু সালেহ।
এ বিষয়ে আদালত প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে বিভাগীয় তদন্তে প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।