

প্রকাশিত
মারুফ সরকার, নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ চত্বর থেকে উঠে আসা এক পরীক্ষিত ও সংগ্রামী ছাত্রনেতা হিসেবে পরিচিত আরিফুল ইসলাম আরিফ।
টাঙ্গাইলের মাটিতে জন্ম নেওয়া এই তরুণ ২০০৮–০৯ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এ ভর্তি হন। ছাত্রজীবনের শুরু থেকেই তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে শিক্ষা, ঐক্য ও প্রগতির রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হন।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তিনি ধারাবাহিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৬ সালে মাস্টারদা সূর্যসেন হল ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক এবং ২০১৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কাজ করে বর্তমানে সহ-সভাপতি হিসেবে সংগঠনের শৃঙ্খলা ও ঐক্য সুদৃঢ় করতে ভূমিকা রাখছেন।
রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে আরিফুল ইসলাম আরিফ এক সুপরিচিত মুখ। ২০১২ সালে সরকারবিরোধী কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে প্রথমবার গ্রেপ্তার হওয়ার পরও তিনি থেমে থাকেননি। বরং ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালের আন্দোলনগুলোতে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। এ সময়ে তাঁকে একাধিকবার মামলা, হামলা ও গ্রেপ্তারের মুখোমুখি হতে হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হামলায় গুরুতর আহত হয়ে কয়েকদিন আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই, ২৮ অক্টোবরের ঘটনায় পুলিশ কনস্টেবল আমিরুল হত্যার অভিযোগে ডিবি পুলিশের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ এবং ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেডে আহত হওয়ার ঘটনাগুলো তাঁর সংগ্রামী জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এছাড়া ৩১ জুলাই “মার্চ ফর জাস্টিস” কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে ঢাকার হাইকোর্ট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনাও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কেবল সাংগঠনিক নয়, বরং আত্মিক বন্ধনে গড়ে উঠেছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় তিনি প্রমাণ করেছেন—রাজনীতি তাঁর কাছে কেবল পদ-পদবি নয়, বরং আদর্শের প্রতি অটল প্রতিশ্রুতি।
দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে সাহসী, অভিজ্ঞ ও ত্যাগী নেতৃত্বই আগামীর বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সেই ধারাবাহিকতায় আরিফুল ইসলাম আরিফ-কে এক নতুন প্রজন্মের দৃঢ়প্রতিজ্ঞ নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে দেখছেন অনেকেই।