
প্রকাশিত
(পর্ব -১)
বিশেষ প্রতিনিধি শেখ সেলিম রেজা :
-গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কেওয়া পূর্ব খণ্ড এলাকায় ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ৫২ বছর বয়সী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। পরে ওই কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ২৭/০৮/২০২৬ ইং তারিখে গর্ভপাত করানোর অভিযোগও উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কিশোরীর মা আনসার রোড এলাকার মেঘনা গার্মেন্টসে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন।পরিবারটি শ্রীপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কেওয়া পূর্ব খণ্ড এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগে উঠে আসা ব্যক্তি কেওয়া পূর্ব খণ্ড গ্রামের মৃত ইউসুফ আলী মোল্লার ছেলে মো. ওহাব মোল্লা (৫২)। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঝাড়ফুঁক ও তাবিজ-কবজের কথা বলে ওই কিশোরীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়।এরপর বিভিন্ন সময়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে কিশোরীকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
পরিবার-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি,একপর্যায়ে কিশোরীটি প্রায় তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে।পরে তাকে মাওনা চৌরাস্তা এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে গর্ভপাত করানো হয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ উঠেছে।তবে হাসপাতালটির সুনির্দিষ্ট নাম, চিকিৎসকের পরিচয় ও চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।বিস্তারিত দ্বিতীয় পর্বে তুলে ধরা হবে, অনুসন্ধান চলমান রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে,গর্ভপাতের পর অসুস্থ কিশোরী ও তার পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয়।পরে তাদের গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে ঘটনা ধামাচাপা দিতে মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়েছে বলেও স্থানীয়দের মধ্যে গুঞ্জন রয়েছে।তবে অর্থ লেনদেনের অভিযোগের পক্ষে এখনো কোনো লিখিত দলিল বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। ভয়ভীতির কারণে পরিবারটি আইনগত পদক্ষেপ নিতে পারছে না বলে স্থানীয় কয়েকজন দাবি করেছেন।তবে পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ভুক্তভোগী পরিবারের বাবার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন,আমরা ভাড়াটিয়া মানুষ,যা হওয়ার হয়েছে আমার মেয়ের সাথে,এখন এই গুলো নিয়ে আমরা কোন শালিশ বা আইনগত ব্যবস্থা নিলে আমাদের জীবনের ঝুঁকি হয়ে পরবে বলে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।পরে আর উনার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মো. ওহাব মোল্লার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া সম্ভব হয়নি।একইভাবে মাওনা চৌরাস্তা এলাকার যে বেসরকারি হাসপাতালে গর্ভপাতের কথা বলা হচ্ছে,সেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও এখনো পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের দাবি,বিষয়টি যথাযথভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হোক।বিশেষ করে কিশোরীর চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি, আল্ট্রাসনোগ্রাম বা অন্যান্য মেডিকেল রিপোর্ট এবং সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের রেকর্ড যাচাই করা হলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।
প্রতিবেদনটি প্রাপ্ত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা তদন্তসাপেক্ষ। অভিযুক্তের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।
পর্ব -১
(অনুসন্ধান চলমান রয়েছে বিস্তারিত আসছে দ্বিতীয় পড়বে,দেখতে ও জানতে চোখ রাখুন আমাদের পেইজে।)