
প্রকাশিত
রাকিবুল হাসান(রকি)
শিবচর(মাদারীপুর)প্রতিনিধি:
মাদারীপুর জেলার শিবচরের বিভিন্ন এলাকায় হঠাৎ করেই বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো অতিরিক্ত বিল পরিশোধে বিপাকে পড়েছেন। এমন অস্বাভাবিক বিলের কবলে উপজেলার শতশত বিদ্যুৎ গ্রাহক। বিদ্যুতের পেছনে এ বাড়তি ব্যয় করতে গিয়ে হাঁপিয়ে উঠছেন তাঁরা।
স্থানীয়রা জানান, গত মাসের তুলনায় এই মাসে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি বিল এসেছে। অথচ বিদ্যুৎ ব্যবহার প্রায় একই রকম ছিল। কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, মিটার না দেখে অনুমানভিত্তিক বিল করা হয়েছে।
হাফেজ, শাহীন সরদার নামে এক ভুক্তভোগী বলেন, আমি একজন হাফেজ মানুষ ছোট্ট একটি ব্যবসা করে কোন মতে পরিবার নিয়ে বেঁচে আছি আমার প্রতি মাসে ১২০০থেকে ১৩০০ টাকা বিল আসতো কিন্তু গত মাসে প্রায় ৪৩০০ টাকা বিল আসে।
অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল আসার কারণ আমার অজানা। তিনি আরো বলেন, অতিরিক্ত কারেন্ট বিল আসার সুষ্ঠু তদন্ত চাই।
স্থানীয় পিন্টু রহমান নামে এক বিদ্যুৎ গ্রাহক বলেন, আমার সাধারণত ৮০০–৯৫০ টাকা মাসে বিল আসে। কিন্তু এই মাসে এসেছে প্রায় ১৮০০ টাকা। অথচ বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে একই রকম।
আব্দুল করিম বয়াতি বলেন,
আমার প্রতি মাসের বিল ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা আসে কিন্তু এ মাসে ১১০০ টাকা বিল আসছে অর্থাৎ তিন থেকে চারগুণ বিদ্যুৎ বিল বেশি এসেছে। অতিরিক্ত বিল আসার কারণ কি? আমি জানতে চাই? আমি রাজধানীর ঢাকায় একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি। গ্রামে আমার স্ত্রী ও দুই সন্তান বসবাস করেন। এমনিতেই পরিবার নিয়ে চলতে আমার অনেক কষ্ট হয় তারপরে বিদ্যুৎ বিল তিন-চার গুণ বেশি দিতে হয় এটা আমার জন্য অনেকটা কষ্টকর।
শিবচর বিদ্যুৎ অফিসের ডি.জি.এম অভিলাষ চন্দ্র পাল জানান, প্রযুক্তিগত সমস্যা বা বিলিং সফটওয়্যারে ত্রুটির কারণে কিছু ক্ষেত্রে এ ধরনের সমস্যা হতে পারে অথবা মাঠ পর্যায় কর্মীদের লেখার ভুল হতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে সঠিক মিটার রিডিং ও প্রয়োজনীয় সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।