
প্রকাশিত
রাকিবুল হাসান(রকি)
শিবচর(মাদারীপুর)প্রতিনিধি:
মাদারীপুর জেলার শিবচরে মদিনা এন্টারপ্রাইজ নামে গড়ে উঠেছে অবৈধ আইসক্রিম তৈরির কারখানা।
কারখানা ঘুরে দেখা যায় নোংরা পরিবেশ ও বিষাক্ত কেমিক্যাল দিয়ে তৈরী হচ্ছে ১০ টাকা মূল্যের মদিনা স্পেশাল আইসক্রিম যা বাজারযাত হয় পুরো উপজেলায়।
সোমবার (২৩ জুন) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,
উপজেলার বহেরাতলা উত্তর ইউনিয়নের চর গজারিয়া গ্রামের মো.আবুল হোসেন খান (৪৫) নামে এক অসাধু ব্যবসায়ী মদিনা এন্টারপ্রাইজ এর সাইনবোর্ড লাগিয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবশে তৈরি করছেন মদিনা স্পেশাল আইসক্রীম।
আইসক্রিমের স্বাদ বাড়ানোর জন্য মিশানো হচ্ছে সেগারিনসহ বিভিন্ন ফ্রেভারের ক্ষতিকারক কেমিক্যাল। যা স্বাস্থের জন্য ক্ষতিকারক। অপরিচ্ছন্ন বালতির মধ্যে খালি হাতেই মেশানো হচ্ছে আইসক্রীমের উপকরণ। নেই কারখানা পরিচালনার অনুমতিপত্র ও পরিবেশ ছাড়পত্র। এছাড়াও বিএসটিআইয়ের অনুমতিপত্র ছাড়াই চলছে আইসক্রিম বাণিজ্য।
কারখানার মালিক মো.আবুল হোসেন খান বলেন, ছিলারচর বাজারে আমাদের একটি বড় ফ্যাক্টরী ছিলো, সেটি দীর্ঘদিন যাবত বন্ধ আছে। তাই নতুন করে নিজ বাড়িতে একটি আইসক্রিমের কারখানা চালু করেছি। যতটুকু সম্ভব পরিস্কার করেই আইসক্রিম উৎপাদন করছি। তিনি আরো বলেন কারখানা পরিচালনার সকল কাগজপত্র'ই আছে তবে সেই গুলোর মেয়াদ নেই তাই রেনু করতে পাঠিয়েছি।
কারখানা ঘুরে দেখা যায় শিশু শ্রমিকের সংখ্যাই বেশি যা শ্রম আইনের পরিপন্থি। তাদের কোনো প্রশিক্ষণ কিংবা পরীক্ষিত কোনো পোশাক ও সরঞ্জাম দেয়নি মালিক পক্ষ। অবৈধ এই কারখানায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরিকৃত আইসক্রিম খেয়ে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছেন তরুণ, যুবক, নারী ও শিশুসহ সাধারন মানুষ।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা জায়, অবৈধ কারখানা থেকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরী কৃত আইসক্রিম বিভিন্ন হাট বাজারে সরবরাহ হয়ে থাকে।এসব আইসক্রিম তৈরির কারখানার কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই। বিশেষ করে পরিবেশ, বিএসটিআই, যুব মন্ত্রণালয়, ফায়ার ব্রিগেড, স্বাস্থ্য বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিভাগের কোনো প্রত্যয়নপত্র নেই। এসব নিম্নমানের ভেজাল আইসক্রিম খেয়ে প্রতিনিয়ত স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে কোমলমতি শিশুরা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, উপজেলা প্রশাসনের সঠিক নজরদারি না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে বীরদর্পে চালিয়ে যাচ্ছে অবৈধ আইসক্রিম বানিজ্য।
সচেতন মহল বলেন দ্রুতই এই ধরনের অবৈধ আইসক্রিম কারখানা বন্ধ না করলে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারে উপজেলার পাঁচ শতাধিক শিশু।