প্রকাশিত,৬,মে,২০২১
নিউজ ডেস্কঃ
২০২০-২০২১ অর্থবছরের
অতিদরিদ্রদের জন্য দ্বিতীয় পর্যায়ের ৪০ দিনের কর্মসূচিতে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলায় ৫৫টি প্রকল্পের তালিকায় স্বজনপ্রীতি ও দলীয়করণের চিত্র দেখা গেছে। তাদের অনেককেই প্রকল্পের কাজে উপস্থিত না থেকেই উপস্থিতি দেখানো হয়েছে। বেশকিছু প্রকল্পে শ্রমিক ও প্রকল্প চেয়ারম্যান অফিসে বসেই হাজিরা নিচ্ছেন। আবার কিছু প্রকল্পে কাজ চললেও উপস্থিতির সংখ্যা নগণ্য। কোন প্রকল্পে কাজ এখনও শুরু হয়নি। এছাড়াও প্রথম পর্যায়ে কোন কাজ না করেই প্রকল্পের টাকা উত্তোলন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে শ্রমিকের উপস্থিতি কিছুটা কম দেখানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ৫২ লাখ ৯৪ হাজার ৮০০ ঘনফুট মাটির কাজ করতে ৩৭৮২ জন শ্রমিকের জন্য এ প্রকল্পের বরাদ্দ ৩ কোটি ২৫ লাখ ৬ হাজার টাকা।
সরেজমিনে কানসাট ইউনিয়নে বরাদ্দকৃত ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৮০০ ঘনফুট মাটি ভরাটের জন্য ২ লাখ ৫৬ হাজার টাকা ব্যয়ে ২৫৭ জন শ্রমিক রয়েছে। তিনটি প্রকল্প ঘুরে কোন শ্রমিকের দেখা মেলেনি। এ ইউনিয়নের রাজারবাগান পশ্চিম ও উত্তর পূর্বমুখী রাস্তার প্রকল্প সভাপতি বিজলী বেগমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, শ্রমিক তো কাজ করছে। কিন্তু সাংবাদিকরা সরেজমিনে থেকে শ্রমিকের দেখা নেই বললে তিনি বলেন, তাহলে বিষয়টি চেয়ারম্যান জানেন। বিশ্বনাথপুর গ্রামের বিলবাড়ী থেকে পুঁঠিমারী বিল প্রকল্পের সভাপতি আরিফা বেগমকে একই প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, প্রকল্পের বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আমার কোন স্বাক্ষর নেয়নি। এমনকি আমাকে কিছু বলেননি। চেয়ারম্যান ও সচিব আমার স্বাক্ষর জাল করে থাকতে পারেন।
বালুচর শাহ বিশ্বাসের বাড়ি থেকে কাঠুরী পর্যন্ত ক্যানাল সংস্কার প্রকল্পের সভাপতি আব্দুল খালেক জানান, ক্যানেলটি সংস্কার করতে মেশিন পাচ্ছি না। তাই কাজ শুরু করা হয়নি। তিনটি প্রকল্পের অধীনস্ত স্থানীয়দের মধ্যে রাজু, শাম মোহাম্মদ, আল আমিন, হারুন অর রশিদ, হাবিবুর রহমান, লাল মোহাম্মদ, উমর ফারুক, আহাদ ও ওয়াসিমসহ এলাকাবাসী জানান, তারা শ্রমিককে রাস্তা মেরামত বা মাটি ভরাটের কাজ করতে দেখেননি। এ বিষয়ে কানসাট ইউপি চেয়ারম্যান বেনাউল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকায় আছি। পরে কথা বলবো।
অন্যদিকে নয়ালাভাঙ্গা ইউনিয়নে ১৮ লাখ ৫৬ হাজার টাকা ব্যয়ে ৩ লাখ ২৪ হাজার ৮০০ ঘনফুট মাটি ভরাটের জন্য ২৩২ জন শ্রমিক নিয়ে তিন প্রকল্প রয়েছে। তবে এই ইউনিয়নের গোয়ালপাড়া থেকে কেন্দ্রীয় গোরস্থান পর্যন্ত ৬০ জন শ্রমিক ও বিরাহিমপুর গ্রামের কোদালকাট্টি থেকে ডালিমের বাড়ি পর্যন্ত প্রকল্পে ১২৮ জন শ্রমিকের কাজ করার কথা থাকলেও কোন শ্রমিকের দেখা মেলেনি। এমনকি স্থানীয়রাও কিছু বলতে পারেননি। ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ আশরাফুল হক জানান, শ্রমিকেরা দুপুর পর্যন্ত কাজ করছে। তিনি জানান, এ ইউনিয়নের তিন প্রকল্পের কাজ চলছে। তবে অসুস্থজনিত ও ধান কাটতে চলে যাওয়ার কারণে কিছু শ্রমিক অনুপস্থিত রয়েছে।
কয়েকদিন আগে উজিরপুর ইউনিয়নে ৩৫ নং ও পাঁকা ইউনিয়নে ৩৮ নং প্রকল্পে সরজমিনে কোন শ্রমিকের দেখা মেলেনি। যদিও প্রকল্প সভাপতি বলেছেনÑ শ্রমিকরা রীতিমতো কাজ করছে। একইভাবে কানসাট, উজিরপুর, পাঁকা, ঘোড়াপাখিয়া, ধাইনগর, চককীর্তি ও দাইপুখুরিয়ার বিভিন্ন প্রকল্প ঘুরে একই চিত্র পাওয়া গেছে। তবে মনাকষা, বিনোদপুর, শ্যামপুর, দুর্লভপুর ও ছত্রাজিতপুর ইউনিয়নে প্রকল্পগুলোয় সরজমিনে কিছু শ্রমিক কাজ করছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম বলেন, কানসাটসহ কয়েকটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে একাধিকবার তাগিদ দিয়েও কাজ হচ্ছে না। তাই নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি জানান, কয়েকটি ইউনিয়নে কাজ হলেও শ্রমিক সংখ্যা কম ও স্বজনপ্রীতির বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাকিব আল রাব্বি জানান, শ্রমিকের উপস্থিতির বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। যারা উপস্থিত থাকছে না, তারা কোন ক্রমেই টাকা পাবে না। আর যারা প্রকল্পেই না গিয়েই খাতায় উপস্থিতির অভিযোগটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরও জানান, প্রয়োজনে প্রকল্পের টাকা ফেরত যাবে। কিন্তু কোন অনিয়ম সহ্য করা হবে না