
প্রকাশিত
সুমন ইসলাম, লালমনিরহাট প্রতিনিধি
লালমনিরহাট জেলা সদর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। দলিল নিবন্ধনের বিভিন্ন ধাপে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, সরকারি রাজস্ব ফাঁকি, অফিসে সময়মতো উপস্থিত না হওয়া এবং প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সেবাগ্রহীতাদের হয়রানির অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।
অভিযোগ রয়েছে, অফিসের পিয়ন থেকে শুরু করে ওমেদার, বিভিন্ন সহায়ক কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের একটি অংশ অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন। দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ না দিলে অনেক ক্ষেত্রে সেবা পেতে বিলম্বের শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন সেবাগ্রহীতা।
স্থানীয়দের দাবি, অফিসের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে দলিল নিবন্ধনের সময় জমির প্রকৃতি পরিবর্তন করে দেখানোর ঘটনাও ঘটে। বাণিজ্যিক বা অধিক মূল্যের জমিকে কৃষি জমি হিসেবে উপস্থাপন করে সরকারি রাজস্ব কম পরিশোধের সুযোগ তৈরি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এর ফলে সরকার প্রতিবছর বিপুল অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
একাধিক সূত্র জানায়, অফিস সময় শেষ হওয়ার পর জরুরি ভিত্তিতে দলিল নিবন্ধন করতে গেলে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়। নির্ধারিত প্রক্রিয়ার বাইরে অর্থ লেনদেনের মাধ্যমেই অনেক কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এছাড়া সদর সাব-রেজিস্ট্রারের অফিসে উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি অফিস সময় অনুযায়ী নিয়মিত উপস্থিত না হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে সাব-রেজিস্ট্রারের যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত গাড়ির ভাড়া ও চালকের বেতন পরিশোধের ক্ষেত্রেও নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগকারীদের দাবি, ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহৃত গাড়িকে ভাড়া করা গাড়ি হিসেবে দেখিয়ে বিভিন্ন সুবিধা নেওয়া হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন দলিল গ্রহীতা বলেন, “দলিল নিবন্ধনের সরকারি খরচের বাইরে নানা অজুহাতে অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়। টাকা ছাড়া অনেক কাজই সময়মতো হয় না।”
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।
সচেতন মহল মনে করছে, সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হলে প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে। একই সঙ্গে দলিল নিবন্ধন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), নিবন্ধন অধিদপ্তর এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সেবাগ্রহীতা ও সচেতন নাগরিকরা।