
প্রকাশিত,২১, জুলাই,২০২২
নাজিম উদ্দিন রানাঃ
লক্ষ্মীপুর জেলার পাঁচ উপজেলার মধ্যে রায়পুর এবং রামগঞ্জ এই দুইটি উপজেলাকে গৃহহীন মুক্ত ঘোষনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী (আজ) বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) সকাল ১০টায় তাঁর সরকারি গণভবন থেকে সরাসরি ভিডিও কনফারেন্স মাধ্যমে যুক্ত হয়ে ৩য় পর্যায়ে গৃহহীন পরিবারগুলোকে ঘর ও চাবি হস্তান্তর কার্যক্রম শুভ উদ্বোধন করেন।
লক্ষ্মীপুরের রামগতি (চর পোঁড়াগাছা ইউনিয়ে) চর কলাকোপা আশ্রয়ণ প্রকল্পের উপকারভোগী ১৪২টি পরিবারকে ঘরগুলোর চাবি হস্তান্তর করা হয়।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্স মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন।
আশ্রয়ণ প্রকল্পে নির্মিত ৩য় পর্যায়ে (২য় ধাপে) লক্ষ্মীপুর সদর – ৯৩, রায়পুর-৮৫, রামগঞ্জ-৬০, রামগতি-১৪২ ও কমলনগর-৫৬। সর্বমোট-৪৩৬ টি গৃহ উপকারভোগী পরিবারকে বুঝিয়ে দেওয়া হলো। আজ তাঁদের স্থায়ী ঠিকানা হয়েছে।
লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার হোসাইন আকন্দ বলেন, এ জেলায় ৭০ একর জমির ওপর ৩ হাজার ২’শত ২৮টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে পূনর্বাসন করে দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে দুইটি উপজেলা গৃহহীন মুক্ত হয়েছে। আশাকরি খুব শীঘ্রই লক্ষ্মীপুর জেলা ভূমিহীন মুক্ত হবে।
জানা গেছে, স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চর পোঁড়াগাছার মানুষের দুঃখকষ্ট দেখতে ছুটে এসেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। নিজ-হাতে মাটি ভরাটের কাজে অংশ নিয়ে ভূমিহীনদের পুনর্বাসনের জন্য উদ্বোধন করেছিলেন ‘গুচ্ছগ্রাম’ প্রকল্প।
এবার বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভূমিহীনদের করে দিলেন স্থায়ী ঠিকানা। চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে আসা উপকারভোগী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে কাছ থেকে দেখা এবং পুনর্বাসিত হওয়া মুক্তিযোদ্ধার সাথে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। বঙ্গবন্ধু কন্যার সাথে কথা বলতে পেরে আবেক আপ্লুত হয়ে পড়ে বঙ্গবন্ধুর হাতে পুনর্বাসিত হওয়া সেই মুক্তিযোদ্ধা।
পাকিস্তানে দীর্ঘ কারাবাস শেষে স্বাধীনতার পর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মাত্র এক মাস ১০ দিনের মাথায় বঙ্গবন্ধু পদধূলি দিয়েছিলেন এই চর পোঁড়াগাছায়। তাঁর স্মৃতিচারণে এখন বেঁচে আছে বঙ্গবন্ধুকে খুব কাছ দেখা অনেকেই। তাঁদের হৃদয়ে এখনও আছে বঙ্গবন্ধু।