
প্রকাশিত
সঞ্জিব দাস, গলাচিপা, পটুয়াখালী, প্রতিনিধি
পটুয়াখালীর গলাচিপায় র্যাব সদস্য পরিচয়ে বিকাশ এজেন্টকে জিম্মি করে নগদ অর্থ ও মোবাইল ছিনতাই করেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। বুধবার (২০ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের বাশবাড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী বিকাশ এজেন্ট আল আমিন (৩৫) বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) রাতে গলাচিপা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
পুলিশ ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গিলাবাড়িয়া বাজার থেকে ওইদিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিকাশ এজেন্ট এমদাদ খান ও তার ভাই কাওসার দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার সময় ‘র্যাব’ লেখা জ্যাকেট পরিহিত দুজন ব্যক্তি তাদের পথরোধ করে দ্বীন ইসলাম নামে এক ব্যক্তির খোঁজ করে। কিছুক্ষণ পর রাত ১০টার দিকে একইভাবে এজেন্ট আল আমিন দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে একই চক্র তাকে থামায়। আল আমিন দ্বীন ইসলামকে চেনেন জানালে তারা তাকে জোরপূর্বক অন্ধকারে নিয়ে যায়। পরে তার হাতে হ্যান্ডকাপ লাগিয়ে ভয়ভীতি দেখায় এবং গাছের সাথে বেঁধে ফেলার চেষ্টা করে। এ সময় তার সাথে থাকা প্রায় ৭০ হাজার টাকা ও এজেন্ট ব্যাংকিং কাজে ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। তবে আল আমিন ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
ভুক্তভোগী আল আমিন জানান, দুজনের পরনে ‘র্যাব’ লেখা জ্যাকেট ছিল, অপর একজন ছিল সিভিল পোশাকে। তাদের হাতে হ্যান্ডকাপ ছিল। ঘটনা ঘটিয়ে তারা মোটরসাইকেলে করে দ্রুত পালিয়ে যায়।
এমদাদ খান বলেন, 'আমরা দুই ভাই একসাথে ছিলাম। আমাদের কাছে দ্বীন ইসলামের খোঁজ করার পর আমরা বাড়ি চলে আসি। র্যাব পরিচয় দেয় এবং র্যাবের কোটি পরা ছিল বলে ভয়ে কিছু জিজ্ঞেস করার সাহস পাইনি। পরে শুনি আল আমিন ভাইকে একা পেয়ে ঘটনাটি ঘটিয়েছে। ঘটনার পর আমরা পটুয়াখালী র্যাব অফিসে গেলে তারা জানায় গিলাবাজারে তাদের কোন অভিযান ছিল না। বরং তারা আমাদের পুলিশে অভিযোগ দিতে বলেন।'
গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশাদুর রহমান বলেন, 'এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
পটুয়াখালী র্যাব-৮ এর স্কয়াড্রোন লিডার রাশেদ বলেন, 'বিষয়টি আমরা অবহিত নই। আমাদের কোন টিম ওই এলাকায় ওই সময় যায়নি। এটা অবশ্যই দুষ্কৃতিকারীদের কাজ। যারা করছে তাদের খুঁজে বের করা হবে।'