প্রকাশিত,২৭, সেপ্টেম্বর,২০২২
বিশেষ প্রতিনিধ, রাজশাহীঃ
সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত ৭টা ২৫ মিনিটে সুপার চিট নুরে ইসলাম মিলন এহেসান হাবিব তারাকে মারপিট করে আহত করেছে। তাও আবার বোয়ালিয়া মডেল থানার গেইটের ১০গজ দূরে।
সাংবাদিক তারা বোয়ালিয়া মডেল থানায় তার ব্যক্তিগত কাজ শেষে বাইরে বের হতেই আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা সুপার চিট নুরে ইসলাম মিলন ও তার প্রতারক গ্রুপের সদস্য ভুয়া পিবিআই খ্যাত রনক তাকে ধরে ফেলে। এ সময় মিলন তাকে মারধর করে এবং অকাথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে।
একই সময় তারার বন্ধু পারভেজকে গালিগালাজ করে এবং তার বাড়িতে ঢুকে মারার হুমকি দেয়। তারা সংখ্যায় অনেক দেখে দ্রুত সেখান থেকে তারা চলে গেলে আবার তাদের আটক করে মারপিট করে মিল ও তার সহযোগীরা। এ সময় তারা অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়।
তারার দুই ছেলে বড় হচ্ছে ভালো স্কুলে পড়ছে। প্রতারক মিলনের কর্মকান্ডের কোন পরিবর্তন হয়নি। ভুয়া দুদক অফিসার পরিচয়ে ৮লাখ টাকা হাতানো মামলায় জেলে যায়। এর আগে একবার আড়াই লাখ টাকার চেকের মামলায় সাজা হয়ে জেলে যায়। রেলে চাকরির নামে রায়হান নামের এক যুবকের ২লাখ ৯০ হাজার টাকা নেয়। পরে রায়হানের মামলায় আবারও জেলে যায়। আরএই তিনটি মামলাতেই র্যব-৫ তাকে গ্রেফতার করে। জামিনে মুক্ত হয়ে এসে কিছুদিন সাধু বেশে থাকে মিলন।তারপর আবারও তার সহযোগীদের নিয়ে সিন্ডিকেট গড়ে তোলে শুরু করে ব্ল্যকমেইলসহ নানা ধরনের ধরনের অপকর্ম।
রাসিক মেয়রের নাম ভাঙ্গিয়ে রেলে চাকরি দেয়ার নামে ৮লাখ টাকা হােতানোর চেষ্টা করে ব্যার্থ
হয়। অনিয়মিত উপচার পত্রিকার কার্ড বিক্রি করা, চাঁদাবাজি তার আয়ের উৎস।
সম্প্রতী রাজশাহী প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ সাইদুর রহমানের বেতনভূক্ত চাকর হানিফ বিকাশ থেকে মোটা অংকের টাকা এবং ব্যবসার ৪টি ফাইল চুরি করে রাজশাহী প্রেসক্লাব থেকে পালিয়েছে। তাকে আশ্রয় প্রশ্রয় দিচ্ছে মিলন। সাথে রয়েছে পিলখানা ফেরত চাকরিচ্যুত বিডিআর মোজাম্মেল হক বাবু, ২পাস ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি সুরুজ, মারুফসহ অস্ত্র ও মাদক কারবারি কয়েকজন প্রতারক।
এই চক্রের সদস্যরা সাংবাদিক পরিচয় দিলেও বাস্তবে তারা সাংবাদিকতার "স" ও জানেনা। অনেকে আবার নিজের নাম ঠিকানাও লিখতে জানেনা তারই দলের এক সদস্য জানিয়েছেন।
সম্প্রতি রাজশাহী প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ সাইদুর রহমানকে নাস্তিক আখ্যা দিয়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করতে উসকানিমূলক অপপ্রচার মানববন্ধন করার চেস্টা করে এই চিট মিলন। রাতের আঁধারে হ্যান্ডবেল বিলি। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে আন্দোলন গড়ে তোলার চেস্টার ত্রুটি করেনি সে। কিন্তু সাধারণ মানুষ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি তাদের পাত্তা দেয়নি।
এই চক্রের মূল হোতা মিলনের র্টাগেট ছিলো মোঃ সাইদুর রহমান ভয় পেয়ে তাকে ডেকে মোটা অংকের টাকা দিবে এবং ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ুয়া সুপার চিটকে প্রেসক্লাবে পদ দিবে। কিন্তু তাদের টার্গেট ব্যর্থ করে দিয়েছে সালাউদ্দিন মিন্টু, তমাল দাস, রাতুল সরকার, মাসুদ রানা রাব্বানী মাসুদ আলী পুলক, জাহিদ, রানা সাংবাদিক এবং তাদের সহকর্মী ও বন্ধুরা।
সেই সাথে এহেসান হাবিব তারা তারার স্ত্রী ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে সাফ জানায় তারার ফেসবুক থেকে কোন স্ট্যাটাস বা কাইকে নিয়ে কিছু লিখা যাবেনা। নইলে আইনের আশ্রয় নিবো। তারার স্ত্রীর ভাষ্য তাদের দুইটা ছেলে বড় হয়েছে। ভাল স্কুলে পড়ে।
মিলনের মতো তারারও যদি নামের সাথে প্রতারক অথবা চিট নাম যুক্ত হয়। তাহলে ভালো ফ্যামিলির কেউ তাদের ছেলের সাথে মিশবে না। এমন ভাবনা থেকেই তারাকে সরিয়ে নেয় তারার স্ত্রী। এটাই তাদের কাল হলো। স্ট্যাটাস দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই হুমকি এলো মিলনের, লিখলো ৫১০০টাকা পাবো আজই দিতে হবে। সেই টাকাও তারার স্ত্রী পরশোধ করে মিলনকে।
কিন্তু দলে লোক কমে যাচ্ছে তাই তারাকে ব্ল্যাকমেইল করে দলে ভেড়াতে শেষ পর্যন্ত হামলা করে মারপিট করে সুপার চিট মিলন।
এছাড়াও সাইদুর রহমানের পাশে যারা ছিলে তাদের টার্গেট করছে এই প্রতারক চক্রের মূল হোতা। প্রতিদিনই তাদের মা, বৌ, বোন, ভাসতি নিয়ে বাজে ভাষায় গালিগালাজ কর স্ট্যাটাস দিচ্ছে। এই সকল ঘটনার তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি ভুক্তভোগীদের।
রাজশাহী প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইদুর রহমান জানান, বেকারত্ব দূর করতে ৪বছর আগে মিলনকে ১লাখ ৪০ হাজার টাকা ব্যবসা করতে দিয়েছিলাম। ফেরত দেয়নি। হানিফকে সেই ১০বছর ধরে মানু করছি। মাসে মোটা টাকা বেতন দিয়েছি। তার বাবা নাই। তাকে সাড়ে ৬ লাখ টাকা খরচ করে তার জমিতে বাড়ি বানিয়ে দিয়েছি। সেই হানিফ আমাতে দুই বার মেরে ফেলার চেষ্টা করেছে। গলায় চাকু ধরে ভয়ভীতি দেখিয়েছে। মিলন আমার নাকম আজে বাজে স্ট্যাটাস দেয়। অকাথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে প্রতিনিয়তই।
তিনি আরও বলেন এদরে কোন ধর্ম, ঈমান, বিবেক কিছু নাই। লক্ষ্য হলো মানুষেরে ক্ষতি করা। বিদ্যাশূণ্য হয়েও সাংবাদিক পরিচয় দেয়। এরা একেবারেই নিলজ্জ। এই প্রতারক চক্র দাপিয়ে বেড়ায় শহরজুড়ে। সাংবাদিক তারা উপর হামলাকারিদের আইনের আওতায় আনা উচিৎ বলেও মন্তব্য করেন এই সভাপতি।
উল্লেখ্য, মোঃ সাইদুর রহমানের পিতা: মৃত আতাউর রহমান (সাবেক রাজশাহী জেলা গভার্ণর এবং বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট সহচর ছিলেন), তারা মা মৃত বেগম মনোয়ারা রহমান, তিনি একজন ভাষাসৈনিক ছিলেন। রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের (রা:বি) প্রতিষ্ঠাতা সাইদুর রহমানের আপন নানা মাদার বখস্। রাবি ছাড়াও তিনি ১৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। ঐতিহ্যবাহি প্রেসক্লাব রাজশাহী প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইদুর রহমান। কর্ম, ব্যবসা এবং জাতীয় দৈনিক ভোরের কাগজ পত্রিকায় রাজশাহী স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে ৩০ বছর যাবত কর্মরত আছেন।
তিনি একজন মোস্ট সিনিয়র সাংবাদিক। তিনি হার্ট ও কিডনি জনিত সমস্যায় ভূগছেন। তার শারীরিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে নিঃস্বার্থ ভাবে রাজশাহীর কিছু সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতা এবং স্থানীয় কিছু ভালবাসার মানুষ এই প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে তার পাশে ছিলেন।